কাঁচাবাজারে অস্বস্তি

সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দাম কেজিতে বেড়েছে ২০–৩০ টাকা, খুচরায় আরও বেশি

Price of vegetables
আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী:- ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:৩১ অপরাহ্ন শীর্ষ খবর
আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী:- ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:৩১ অপরাহ্ন
সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দাম কেজিতে বেড়েছে ২০–৩০ টাকা, খুচরায় আরও বেশি
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে রাজশাহীর কাঁচাবাজারে। ছবি - বিজয় বাংলা

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে রাজশাহীর কাঁচাবাজারে। এর সঙ্গে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় অধিকাংশ সবজির দাম বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে কোনো কোনো সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। পাইকারি বাজারের তুলনায় খুচরা বাজারে দামের ব্যবধানও থাকছে বেশ।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নগরীর মাস্টারপাড়া, খড়খড়ি, শিরোইলসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এবং সাম্প্রতিক বাজারদরের তথ্য পর্যালোচনায় এমন চিত্র পাওয়া গেছে। 

বর্তমানে নগরীর বাজারগুলোতে প্রতি কেজি আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা, পটল ৪০ থেকে ৫০, করলা ৫০ থেকে ৬০, ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ এবং কাঁকরোল প্রায় ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। লাউ বিক্রি হচ্ছে আকারভেদে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। সবচেয়ে বেশি দামের তালিকায় রয়েছে কাঁচামরিচ—প্রতি কেজি ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা ও বেগুন ১০০ - ১২০ টাকা

পাইকারিতে এক দাম, খুচরায় আরেক:-

বাজার ঘুরে দেখা যায়, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দামের পার্থক্য নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। নগরীর মাস্টারপাড়া ও খড়খড়ি পাইকারি বাজারে দাম বাড়লেও খুচরা বাজারে একই পণ্যের দাম আরও বেশি বলে সাম্প্রতিক বাজার পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার বিষয়টি সামনে রেখে অনেক ব্যবসায়ী দ্রুত পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। অথচ পরিবহন ব্যয় যতটা বেড়েছে, খুচরা পর্যায়ে তার তুলনায় বেশি হারে দাম বাড়ানো হচ্ছে কি না—তা নিয়মিত যাচাই করা প্রয়োজন। বাড়তি দামের কারণে অনেক পরিবার প্রয়োজনের তুলনায় কম পরিমাণে সবজি কিনছে।

নগরীর বিভিন্ন বাজারে কথা বলা কয়েকজন ক্রেতার ভাষ্য, আগে যে পরিমাণ সবজি নিয়ে একবার বাজার করা যেত, এখন একই টাকায় তার চেয়ে কম পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। ফলে সীমিত আয়ের মানুষের সংসার পরিচালনায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।


বিক্রেতাদের যুক্তি—বৃষ্টি ও পরিবহন ব্যয়:-

অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাম বাড়ানোর পেছনে তাদের এককভাবে দায়ী করার সুযোগ নেই। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে অনেক এলাকায় জমি থেকে সবজি তোলা ব্যাহত হয়েছে। এতে বাজারে সরবরাহ কমেছে। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পণ্য পরিবহনের খরচও বেড়েছে।

বিক্রেতাদের দাবি, সরবরাহ স্বাভাবিক হলে এবং মাঠ থেকে পর্যাপ্ত সবজি বাজারে এলে দামও কমে আসবে। একই সঙ্গে তারা বলছেন, পাইকারি পর্যায়ে যে দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে, তার সঙ্গে পরিবহন, শ্রমিক ও বাজারসংক্রান্ত অন্যান্য খরচ যোগ করেই খুচরা মূল্য নির্ধারণ করতে হচ্ছে।

তবে সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতিতে ক্রেতা ও বিক্রেতা—দুই পক্ষের বক্তব্যের মধ্যে মূল পার্থক্য হলো দামের বৃদ্ধির মাত্রা নিয়ে। বিক্রেতারা সরবরাহ সংকট ও পরিবহন ব্যয়কে কারণ হিসেবে দেখালেও ক্রেতারা বাজার তদারকি আরও জোরদারের দাবি জানাচ্ছেন।

২০ টাকা বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম:-

সরকার ২০ সেপ্টেম্বর ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়। বর্তমানে ডিজেল ১৩৫, কেরোসিন ১৫৫, পেট্রোল ১৬০ এবং অকটেন ১৬৫ টাকা লিটারে বিক্রির জন্য নির্ধারিত হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল ও জুনেও জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। ফলে চলতি বছরে একাধিক দফায় জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব পরিবহন ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় পড়ছে।

শুধু তেল নয়, বৃষ্টিও বড় কারণ:-

রাজশাহীর বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে শুধু জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নয়!।  টানা বৃষ্টির কারণে সবজির সরবরাহ কমে যাওয়া অন্যতম কারণ।  বিক্রেতারা বলছেন,

 বাজারে এখন একদিকে পরিবহন ব্যয়ের চাপ, অন্যদিকে উৎপাদন এলাকা থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রভাব—দুইয়ের সম্মিলিত চাপ তৈরি হয়েছে।

প্রয়োজন কার্যকর বাজার তদারকি:-

ভোক্তাদের দাবি, কোনো পণ্যের দাম বৃদ্ধির যৌক্তিক কারণ থাকলে সেটি খতিয়ে দেখা দরকার। একই সঙ্গে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দামের পার্থক্য, ক্রয়মূল্য, পরিবহন ব্যয় ও বিক্রয়মূল্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হলে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ কমবে।

রাজশাহীর ক্রেতাদের প্রত্যাশা:-

ছুটির দিনসহ সপ্তাহের বাজারগুলোতে প্রশাসন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট বাজার তদারকি সংস্থাগুলোর সমন্বিত নজরদারি বাড়ানো দরকার। এতেবভোক্তার ওপর বাড়তি চাপ কমবে।