সার সংকট কাটিয়ে জমিতে কৃষকের ব্যস্ততা॥ রোপা আমনে ভালো ফলনের আশা বরেন্দ্র অঞ্চলে
রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলের মাঠজুড়ে এখন সবুজ আমন ধানের সমারোহ। গত কিছুদিন সারের তীব্র সংকটে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাতে হলেও অবশেষে বাজারে সার ও প্রয়োজনীয় রাসায়নিক পাওয়া যাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে। কাঙ্ক্ষিত সার ও কীটনাশক হাতে পেয়েই দেরি না করে জমিতে তা প্রয়োগ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন গোদাগাড়ীসহ আশেপাশের অঞ্চলের কৃষকেরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে রাসায়নিক সার ও প্রয়োজনীয় কীটনাশক সময়মতো না পাওয়ায় আমন ধান ক্ষেতের পরিচর্যা নিয়ে আশঙ্কায় পড়েছিলেন কৃষকরা। সারের অভাবে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও ফলন ব্যাহত হওয়ার ভয় পাচ্ছিলেন তারা।
দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর সম্প্রতি স্থানীয় বিসিআইসি ও বিএডিসি অনুমোদিত ডিলারদের কাছে ইউরিয়া, ডিএপি ও এমপি সারের সরবরাহ পৌঁছালে কৃষকদের সেই অনিশ্চয়তা কাটে।
শনিবার(২৬ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গোদাগাড়ীর বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, ভোর থেকেই কৃষকরা সার ও কীটনাশক নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন। কেউ ক্ষেতে সার ছিটাচ্ছেন, আবার কেউ ধানের পোকা-মাকড় দমনে স্প্রে করছেন কীটনাশক।
গোদাগাড়ীর বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, "কয়েকদিন ধরে সারের জন্য ডিলারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়েছে। সময় পার হয়ে যাচ্ছিল দেখে খুব উদ্বেগে ছিলাম। এখন সার পেয়ে জমিতে দিচ্ছি। কিছুটা দেরি হলেও আশা করছি ধানের তেমন বড় কোনো ক্ষতি হবে না এবং শেষ পর্যন্ত ভালো ফলন পাওয়া যাবে।"
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, মাঝখানে বাজারে সারের কিছুটা টানাপোড়েন থাকলেও বর্তমানে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। কৃষকরা যাতে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট বা বাড়তি দামের শিকার না হন, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং সঠিক সময়ে পরিচর্যা শেষ করতে পারলে এ বছর বরেন্দ্র অঞ্চলে রোপা আমনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।