রাজশাহীতে দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু শারদীয় দুর্গোৎসব
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা আজ দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে। শুক্রবার(১৬ই অক্টোবর) মহাষষ্ঠীর অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে মূল দুর্গোৎসব।
পুরাণ অনুসারে, অকালবোধনের মাধ্যমে নিদ্রিত দেবী দুর্গাকে জাগ্রত করার শাস্ত্রীয় আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয়।
প্রচলিত নিয়মে মহাষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত পাঁচ দিন দুর্গাপূজা উদ্যাপিত হলেও এবার তিথির কারণে উৎসব চলবে ছয় দিন। সূচি অনুযায়ী, শনি ও রোববার মহাসপ্তমীর পূজা, সোমবার মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা এবং মঙ্গলবার মহানবমীর আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী বুধবার বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসব।
রাজশাহীতে পূজার প্রস্তুতি ও মণ্ডপ সংখ্যা:-
সারাদেশের ন্যায় রাজশাহীতেও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে। রাজশাহী মহানগর ও জেলার ৯ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ বছর মোট ৪৮৯টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি ও পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এর মধ্যে রাজশাহী মহানগরী এলাকায় রয়েছে ৮৫টি এবং জেলার ৯ উপজেলায় রয়েছে ৪০৪টি মণ্ডপ। গত বছরের তুলনায় এবার রাজশাহীতে ১৭টি মণ্ডপ বেশি রয়েছে।
পূজা উপলক্ষে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলার মণ্ডপগুলোতে মোট ২৮৯ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে (প্রতিটি মণ্ডপের জন্য ৬০০ কেজি করে)।
পাশাপাশি, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) পক্ষ থেকে মহানগরীর ৮৫টি পূজামণ্ডপের প্রতিটিকে ২০ হাজার টাকা করে মোট ১৭ লাখ টাকার আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি:-
রাজশাহীতে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মহানগর পূজা উদযাপন কমিটি ও মণ্ডপ সভাপতিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু।
সভায় রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহানগর এলাকার মণ্ডপগুলোতে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাধারণ নির্দেশনা:
প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা ও অগ্নিনির্বাপণযন্ত্র নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য দৃশ্যমান পরিচয়পত্র, আলাদা পোশাক এবং পরিচিতিমূলক বাহুবন্ধনী বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে সত্যতা যাচাই ছাড়া লাইক, কমেন্ট বা শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
এছাড়া,সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আজান ও নামাজের সময় মসজিদসংলগ্ন পূজামণ্ডপে এবং প্রতিমা বিসর্জনের সময় শব্দযন্ত্রের ব্যবহার সীমিত রাখতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে আতশবাজি ও পটকা ফোটানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।অন্যদিকে
প্রতিমা বিসর্জনের সময় নির্ধারিত রুট বা পথ অনুসরণের নির্দেশনা রয়েছে।
জরুরি যোগাযোগের নম্বরসমূহ:
পুলিশ সদরদপ্তর নিয়ন্ত্রণ কক্ষ: ০১৩২০০০১২৯৯, ০১৩২০০০১৩০০
রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি): ০১৮১৭৬০২০৫০
ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষ: ০১৭১৩০৩৮১৮১, ০১৭১৩০৩৮১৮২, ০১৭৩০৩৩৬৬৯৯