উৎপাদন বাড়াতে রাজশাহী রেশম কারখানায় চালু ১৫ লুম

Md. Mizanur Rahman Minu
নিজস্ব প্রতিনিধি, রাজশাহী:- ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:১৩ অপরাহ্ন সারা বাংলা
নিজস্ব প্রতিনিধি, রাজশাহী:- ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:১৩ অপরাহ্ন
উৎপাদন বাড়াতে রাজশাহী রেশম কারখানায় চালু ১৫ লুম
ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু।ছবি - বিজয় বাংলা

রাজশাহী রেশম কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ১৫টি পাওয়ার লুম পুনরায় চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সচল লুমের সংখ্যা ১৫ থেকে ২৫টিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। 

একই সঙ্গে রেশম উৎপাদনের কাঁচামাল তুঁতপাতার টেকসই সরবরাহ নিশ্চিত করতে তুঁতচারা রোপণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।


শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজশাহী রেশম কারখানা চত্বরে আঞ্চলিক রেশম সম্প্রসারণ কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এসব কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু।

অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী বলেন, রাজশাহী রেশম কারখানা এ অঞ্চলের মানুষের জীবিকা ও বহু পরিবারের আয়ের অন্যতম উৎস। দীর্ঘ প্রচেষ্টায় কারখানার ১৫টি লুম চালু করা সম্ভব হয়েছে। উৎপাদন বাড়াতে শিগগিরই সচল লুমের সংখ্যা ২৫টিতে উন্নীত করা হবে।


তিনি আরও বলেন, রাজশাহী রেশম কারখানা বা এর কর্মকর্তাদের জিম্মি করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের চেষ্টা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। কারখানা জিম্মি করে কোনো নেতাগিরি চলবে না। প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব রক্ষা ও উৎপাদন বাড়াতে যারা ভূমিকা রাখবেন, কেবল তাদেরই এখানে কাজ করার সুযোগ থাকবে।


ভূমিমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসেছে এবং নতুন পরিবেশ তৈরি করেছে। বর্তমান অনুকূল পরিবেশে প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে রেশম কারখানাকে পুনরুজ্জীবিত করার ঘোষণা দিয়েছেন। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে তিনি আশাবাদী।এসময় তিনি রেশম বোর্ডের অধিদপ্তর সম্প্রসারণের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি।


এর আগে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় কারখানা প্রাঙ্গণে তুঁতচারা রোপণ করেন অতিথিরা। পরে ফিতা কেটে পুনরায় চালু হওয়া ১৫টি পাওয়ার লুমের উৎপাদন কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। এ সময় তাঁরা চালু হওয়া পাওয়ার লুম ও সুতা তৈরির কারখানা পরিদর্শন করেন।


রেশম বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী রেশম কারখানায় মোট ৪২টি লুম রয়েছে। এর মধ্যে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা লুমগুলো পর্যায়ক্রমে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিল্ক কাপড়ের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় তাঁতিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। 


অন্যদিকে, রেশম গুটি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল তুঁতপাতার টেকসই সরবরাহ নিশ্চিত করতে কারখানা চত্বর ও আশপাশের এলাকায় তুঁতচারা রোপণের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।


অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. তৌফিক আল মাহমুদ, পরিচালক (অর্থ ও পরিকল্পনা) ড. এম এ মান্নান এবং রাজশাহী মহানগর বিএনপির সহসভাপতি আসলাম সরকারসহ রেশম কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।