আর্কাইভ কনভাটার ঢাকা, সোমবার, এপ্রিল ১১০, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

যশোরে ৮০ হেক্টর জমিতে চাষ হচ্ছে বিষমুক্ত গাজর

Bijoy Bangla

অনলাইন ডেস্ক:

প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারী, ২০২৪, ১০:১৭ এএম

যশোরে ৮০ হেক্টর জমিতে চাষ হচ্ছে বিষমুক্ত গাজর

যশোরে চলতি মৌসুমে হাইব্রিড জাতের গাজরের আশানুরূপ উৎপাদন হয়েছে। গেল বছরের তুলনায় এবার জৈব বালাই নাশক পদ্ধতিতে চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখছেন কৃষকরা। ফলে অনেক কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে এই পদ্ধতির চাষে। কৃষিবিভাগ বলছে, বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে কৃষকদের নানা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। 

সরেজমিনে যশোর সদর উপজেলার চাচড়া ইউনিয়নের গোয়ালদা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, এ গ্রামে চাষ হচ্ছে হাইব্রিড জাতের গাজর। পরিবেশবান্ধব জৈব পদ্ধতিতে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করছে এখানকার কৃষকরা। কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় এই পদ্ধতিতে গাজর চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন তারা। টকিটো ও সিন্দুর এ দুই ধরনের গাজরের চাষ হচ্ছে এখানে।

সার কীটনাশকের ব্যবহার পরিত্যাগ করে কৃষকদের জৈব সার ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে কৃষি বিভাগ। সবজি ক্ষেতে ক্ষতিকারক পোকা দমনে ব্যবহার করা হয়েছে ব্লু ও ইয়োলো আঠালো ফাঁদ। 

এ গ্রামের সোহেল রানা নামে এক কৃষক বলেন, পড়ালেখা শেষ করে বেকার ঘুরছিলাম। কৃষি অফিসের স্যাররা এসে গ্রামে যখন ক্যাম্পেইন শুরু করল তখন বিষমুক্ত গাজর চাষ সম্পর্কে জানতে পারি। এরপর তাদের সহোযোগিতায় ২০ শতক জমিতে গাজরের চাষ করেছি। উৎপাদনও ভালো হয়েছে। ইতিমধ্যে হার্ভেস্ট করা শুরু করেছি।

তিনি জানান, এ গাজর চাষে তার ৩০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। এ ফলনে তিনি তার ক্ষেত থেকে প্রায় এক থেকে দেড় লাখ টাকার গাজর বিক্রির আশা করছেন।

মাহবুর রহমান নামে আরেক কৃষক বলেন, ২০ শতক জমিতে সিন্দুর জাতের গাজর লাগিয়েছি। কোনো রকম সার কীটনাশক ব্যবহার করিনি। এ প্রথম কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এই ব্যতিক্রম পদ্ধতিতে চাষ শুরু করেছি।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশের যে সবজি উৎপাদন হয় তার সিংহ ভাগ উৎপাদন হয় যশোর থেকে। বছর জুড়েই এই অঞ্চলে চাষ হয় বিভিন্ন জাতের সবজি। চলতি মৌসুমে যশোর জেলায় চার হাজার হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। এর মধ্যে জৈব বালাই নাশক গাজর চাষ হয়েছে ৮০ হেক্টর জমিতে।

কৃষি বিভাগ বলছেন, বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের নানা ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে চাষ করলে একদিকে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমবে, অন্যদিকে ফলন অধিক হবে। 

যশোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান আলী বলেন, জৈব বালাই নাশক পদ্ধতিতে কৃষকরা যেমন অধিক ফলন পাচ্ছে তেমনি বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করতে পারছে। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো, কৃষকদের বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ করা এবং ভোক্তাদের বিষমুক্ত সবজির চাহিদা নিশ্চিত করা। এ ছাড়া আমরা বিষমুক্ত সবজি বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারব। 

যশোর সদর উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা বলেন, আমরা জানি আমাদের কৃষকরা প্রচুর পরিমাণে সার কীটনাশক ব্যবহার করেন। এটা ভোক্তাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ক্ষতিকারক। এজন্য আমরা তাদেরকে বিষমুক্ত সবজি চাষে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়েছি। এর আশানুরূপ ফলাফলও পেয়েছি।

google.com, pub-6631631227104834, DIRECT, f08c47fec0942fa0