বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন ইরান, ইন্টারনেট শাটডাউনের আড়ালে কী চলছে

Iran, isolated from the world, what's going on behind the internet shutdown
অনলাইন ডেস্ক ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ০২:০৩ অপরাহ্ন শীর্ষ খবর
অনলাইন ডেস্ক ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ০২:০৩ অপরাহ্ন
বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন ইরান, ইন্টারনেট শাটডাউনের আড়ালে কী চলছে
সংগৃহীত ছবি

ইরানে কঠোর ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ও ব্যাপক দমন-পীড়ন সত্ত্বেও শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে রাজধানী তেহরানসহ সারা দেশ সরকারবিরোধী স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে। 

এএফপির তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরের মধ্যে এটি ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় আন্দোলন। দুই সপ্তাহ আগে অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ এখন বর্তমান ধর্মীয় শাসকদের অপসারণের দাবিতে রূপ নিয়েছে। 

ইরান সরকার এই অস্থিরতার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করলেও বিক্ষোভকারীরা পিছু না হটে শহরের কেন্দ্রগুলো নিয়ন্ত্রণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই দমন অভিযানে নিহতের সংখ্যা ৫১ ছাড়িয়েছে বলে দাবি করেছে, যার মধ্যে অনেক শিশুও রয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করছে। 

নেটব্লকসের দেওয়া তথ্য মতে, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) থেকে ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকায় ভেতরের সঠিক তথ্য বাইরে আসছে না। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন যে ইরান এখন স্বাধীনতার দ্বারপ্রান্তে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের সহায়তা দিতে প্রস্তুত। এমনকি নিউইয়র্ক টাইমস দাবি করেছে, ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলার বিকল্পগুলো নিয়েও ট্রাম্পকে ব্রিফ করা হয়েছে।

তেহরানের উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীরা আতশবাজি ফুটিয়ে এবং হাঁড়ি-পাতিল বাজিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। অনেকে অপসারিত রাজতন্ত্রের পক্ষে স্লোগান দিচ্ছেন এবং শাহ আমলের পতাকা প্রদর্শন করছেন। নির্বাসিত শাহজাদা রেজা পাহলভি যুক্তরাষ্ট্র থেকে এক ভিডিও বার্তায় বিক্ষোভকারীদের শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো দখল করার আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এই বিক্ষোভকারীদের ‘নাশকতাকারী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এবং সেনাবাহিনী জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইরানি কর্তৃপক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানালেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে তাদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। তেহরানের সাধারণ মানুষ ইন্টারনেট না থাকা এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন, তবুও অনেকে এই সংগ্রামকে ‘মুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় মূল্য’ হিসেবে দেখছেন। লন্ডনে ইরানি দূতাবাসের সামনেও বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়েছেন, যা এই আন্দোলনের বৈশ্বিক প্রভাবকে স্পষ্ট করে তুলেছে।