মোহাম্মদপুরে হত্যা মামলার আসামি শাওনসহ গ্রেপ্তার ৫, অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

Weapons and ammunition recovered
বিজয় বাংলা ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০১:৫৪ অপরাহ্ন জাতীয়
বিজয় বাংলা ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০১:৫৪ অপরাহ্ন
মোহাম্মদপুরে হত্যা মামলার আসামি শাওনসহ গ্রেপ্তার ৫, অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে আলোচিত হত্যা মামলার পলাতক মূল আসামি শাওনসহ (২৩) পাঁচ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, মাদক ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালের দিকে ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ২টা পর্যন্ত মোহাম্মদপুরের সোনামিয়ার টেক ও চাঁদ উদ্যান এলাকায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী জানতে পারে, দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা হত্যা মামলার মূল আসামি শাওন এলাকায় অবস্থান করছে। শাওনের বিরুদ্ধে গত বছর প্রকাশ্য দিবালোকে একজন ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযানকালে গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ৮টি পেট্রোল বোমা, ৫ রাউন্ড শটগানের গুলি, ১টি চাইনিজ ছুরি, ৮টি সামুরাই, ৫টি চাপাতি, ১টি রামদা, ৬১টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ৩৫ গ্রাম ইয়াবা (গুঁড়ো), ৪৭৫ গ্রাম গাঁজা, ৬০ পুরিয়া গাঁজা, ৪টি মোবাইল ফোন, ৫৮টি বিদেশি কয়েন এবং মাদক পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত ১টি ডিজিটাল ওজন মেশিন উদ্ধার করা হয়।

সেনাবাহিনীর ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, শাওন গত বছর প্রকাশ্য দিবালোকে একজন ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে তাকে শনাক্ত করা হয়েছিল। তাকে গ্রেপ্তারে আগেও কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করা হলেও সে কৌশলে পালিয়ে যায়। সর্বশেষ সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে তাকে অস্ত্র ও মাদকসহ গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। 

গ্রেপ্তারকৃতদের পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাঁদ উদ্যানের সোনামিয়ার টেক এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে মাদকের হটস্পট হিসেবে পরিচিত। শাওন সেখানে সব ধরনের মাদক বিক্রি করে আসছিল। শাওনের ভাই নয়ন পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করায় শাওনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আগে কখনো আটক করেনি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে।

তারা দাবি করেন, গত বছর চাঁদ উদ্যানে আলামিন হত্যাকাণ্ডে অস্ত্র সরবরাহ করেছিল শাওন। কিশোর গ্যাং পরিচালনা, মাদক ব্যবসা ও প্রকাশ্যে অস্ত্র মহড়াসহ নানা অপরাধে জড়িত থাকলেও সোর্সের ভাই হওয়ার কারণে সে বারবার আইনের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে আসছিল। এমনকি শাওন বাহিনী সামুরাইসহ ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, শাওনের ভাই নয়ন র‍্যাব, পুলিশ ও ডিবির সোর্স হিসেবে কাজ করে। অভিযানের আগাম তথ্য পেয়ে সে আগেভাগেই তার ভাই শাওনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে দিত। সোর্স নয়ন রায়েরবাজার, চাঁদ উদ্যান, সোনামিয়ার টেক ও জেনেভা ক্যাম্প এলাকার বিভিন্ন মাদক স্পট থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের মাসোহারা আদায় করে বলেও পুলিশ সূত্রটি জানিয়েছে।