আমরা সকল ধর্মের মানুষকে বুকে ধারণ করে বাংলাদেশ গড়তে চাই
আমরা সকল ধর্মের মানুষকে বুকে ধারণ করে বাংলাদেশ গড়তে চাই। আল্লাহর বিধান কারো উপর কখনো জুলুম করতে পারে না, জুলুম করার প্রশ্নই উঠে না। এদেশে আমরা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্ট্রান, নারী-পুরুষ, এদেশে বহু নৃ-তাত্বিক মানুষ সাওঁতাল ভাই বোনেরা আছেন। আমাদের সবাইকে নিয়েই বাংলাদেশ। আমরা এই জাতিকে আর বিভক্ত করতে দেবো না। আমরা ঐক্যবদ্ধ একটি জাতিতে এগিয়ে যেতে চাই।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এসব বলেন।
তিনি আরো বলেন,এই দেশে রাজার ছেলে রাজা হবে বংশানুক্রমিক পরিবার তান্ত্বিক রাজনীতি এই দেশে আর চলবে না। এই দেশের রাজনীতি হবে মেধা এবং যোগ্যতার ভিক্তিতে। রাজনীতি হবে দেশ প্রেমের প্রমাণের মাধ্যমে। এই দেশে আর কখনো আধিপত্যবাদের রাজনীতি চলবে না। আমাদের প্রেতিবেশীসহ সকল দেশের সাথে চমৎকার সম্পর্ক থাকবে। সেই সম্পর্ক হবে সমতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে। অমর্যাদাকর সম্পর্ক কোন দেশের সাথে চাই না। আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই । এজন্য সেদিন আমাদের সোনার ছেলেরা গুলিকে পরোয়া করে নাই।
তিনি বলেন, আমরা সকল ধর্মের মানুষকে বুকে ধারণ করে বাংলাদেশ গড়তে চাই। আল্লাহর বিধান কারো উপর কখনো জুলুম করতে পারে না, জুলুম করার প্রশ্নই উঠে না। এদেশে আমরা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্ট্রান, নারী-পুরুষ, এদেশে বহু নৃ-তাত্বিক মানুষ সাওঁতাল ভাই বোনেরা আছেন। আমাদের সবাইকে নিয়েই বাংলাদেশ। আমরা এই জাতিকে আর বিভক্ত করতে দেবো না। আমরা ঐক্যবদ্ধ একটি জাতিতে এগিয়ে যেতে চাই। এজন্য আমাদের ১১ দলের স্লোগান হচ্ছে ঐক্যবন্ধ বাংলাদেশ।
আমরা আর মানুষে মানুষে জাতিতে হিংসা বিদ্বেস জাগিয়ে রাখতে দিবো না। আমরা আল্লাহর দরবারে ওয়াদা বন্ধ জনগণের কাছে ওয়াদবন্ধ জনগণের রায়ের মাধ্যমে, ভোটের মাধ্যমে, ভালোবাসার মাধ্যমে, সমর্থনের মাধ্যমে আল্লাহ যদি এই দেশ পরিচালনার সুযোগ দেয় আমরা ইনশাআল্লাহ কাউকে চাঁদাবাজি করতে দেবো না। ইনশাআল্লাহ এই দেশে কারো দুর্নীতি করার সুযোগ থাকবে না।এসময় তিনি রাজশাহীতে গ্যাস সরবরাহ, সুগার মিল, ডেন্টাল কলেজসহ নানান উন্নয়নের প্রতিশ্রতি দেন।
তিনি আরো বলেন, দেশবাসী দীর্ঘদিন ধরে একটি নতুন বাংলাদেশের অপেক্ষায় আছে এবং সেই বাংলাদেশ গড়তে হলে পুরোনো রাজনীতিকে লাল কার্ড দেখাতে হবে।
স্বাধীনতার পর গত ৫৪ বছরে দেশে দুই ধরনের উন্নয়ন হয়েছে—একদিকে কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়ন, অন্যদিকে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, ব্যাংক লুট, শেয়ারবাজার ধস ও অর্থপাচারের ‘উন্নয়ন’।আমরা এই দ্বিতীয় ধরনের উন্নয়ন আর চাই না। আমরা চাই জনগণের উন্নয়ন, ১৮ কোটি মানুষের উন্নয়ন।
এই প্রথম রাজশাহীর ইতিহাসে জামায়াত ইসলামের আয়োজনে নারী-পুরুষের সমন্বয়ে বিশাল নির্বচনী সভা অনু্ষ্ঠিত হলো। দুপুরের মধ্যেই মাদ্রাসা মাঠটি লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। এর আগে জামায়ত আমির গোদাগাড়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন।