ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন রিফুয়েলিং জেটের ছবি প্রকাশ, যা জানা গেল

Photos of damaged US refueling jet released
অনলাইন ডেস্ক ১৩ মার্চ ২০২৬ ১০:১০ অপরাহ্ন বিশ্ব/আন্তর্জাতিক
অনলাইন ডেস্ক ১৩ মার্চ ২০২৬ ১০:১০ অপরাহ্ন
ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন রিফুয়েলিং জেটের ছবি প্রকাশ, যা জানা গেল
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝে এক ভয়াবহ আকাশ দুর্ঘটনার সাক্ষী হলো বিশ্ব। __সংগৃহীত ছবি: সিএনএন

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝে এক ভয়াবহ আকাশ দুর্ঘটনার সাক্ষী হলো বিশ্ব। ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক কেসি-১৩৫ জ্বালানি সরবরাহকারী (রিফুয়েলিং) জেট মাঝআকাশে সংঘর্ষের ফলে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্য একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত চারজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। পেন্টাগনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘটনার গভীর শোক প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এক বাক্যে যুদ্ধের ভয়াবহতা ফুটিয়ে তুলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘যুদ্ধ মানেই নরক। যুদ্ধ মানেই বিশৃঙ্খলা।’ ক্ষতিগ্রস্ত বিমানটি বর্তমানে ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে রয়েছে, যার ডানার পেছনের অংশ নিখোঁজ। সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে, অন্যদিকে ইরানপন্থি গোষ্ঠী এই বিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে।

সিএনএন-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান কেএএন (KAN) কর্তৃক প্রকাশিত ক্ষতিগ্রস্ত যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সরবরাহকারী (রিফুয়েলিং) জেটের ছবিতে দেখা গেছে, ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের টারমাকে একটি কেসি-১৩৫ (KC-135) বিমান দাঁড়িয়ে আছে, যার লেজের দিকের অংশের (টেইল ফিন) কিছু অংশ নিখোঁজ। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, দ্বিতীয় বিমানটি পশ্চিম ইরাকে বিধ্বস্ত হয়েছে এবং অন্তত চারজন ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন। এছাড়া অন্য দুই কর্মীর জন্য উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তেল-আবিবের কাছে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে থাকা বিমানটির শনাক্তকরণ চিহ্ন দেখে বোঝা গেছে যে, এটি ক্যালিফোর্নিয়ার বিল এয়ার ফোর্স বেস থেকে এসেছে।

৪ মার্কিন সেনার মৃত্যুতে প্রতিরক্ষা সচিব হেগসেথ : ‘যুদ্ধ মানেই নরক’

এদিকে, পশ্চিম ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি জ্বালানি সরবরাহকারী (রিফুয়েলিং) বিমান বিধ্বস্ত হয়ে চার মার্কিন পরিষেবা সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বলেছেন, ‘যুদ্ধ মানেই নরক।’

শুক্রবার পেন্টাগনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথ বলেন, ‘যুদ্ধ মানেই নরক। যুদ্ধ মানেই বিশৃঙ্খলা। গতকাল আমাদের কেসি-১৩৫ ট্যাঙ্কার বিমানটির মর্মান্তিক বিধ্বস্তের ঘটনায় আমরা দেখেছি..., খারাপ কিছু ঘটতে পারে।’

বিমানটির গায়ের চিহ্ন বা মার্কিং থেকে শনাক্ত করা গেছে যে এটি ক্যালিফোর্নিয়ার বিল এয়ার ফোর্স বেস থেকে এসেছে। 

নিহত সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা সবাই আমেরিকান হিরো। আমরা ডোভারে এই হিরোদের সম্মানজনকভাবে গ্রহণ করব। তাদের এই আত্মত্যাগ আমাদের মিশনের সংকল্পকে আরও দৃঢ় করবে।’

সংবাদ সম্মেলনে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনও এই দুর্ঘটনা নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, ঘটনাটি পশ্চিম ইরাকের বন্ধুত্বপূর্ণ ভূখণ্ডের উপরে ঘটেছিল, যখন ক্রুরা একটি যুদ্ধ অভিযানে নিয়োজিত ছিলেন। জেনারেল কেইন স্পষ্ট করে বলেন, ‘সেন্টকম যেমনটা জানিয়েছে, এটি শত্রু বা বন্ধুত্বপূর্ণ কোনো পক্ষের গুলিবর্ষণের ফলে ঘটেনি।’

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শুক্রবার এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, কেসি-১৩৫ স্ট্রাটোট্যাঙ্কার বিমানটিতে থাকা অন্য দুই ক্রু সদস্যের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবারের এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে বলেও সেন্টকম জানিয়েছে।

তবে, সেন্টকোমের এই বার্তার কিছু সময় পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে উড়োজাহাজটি ভূপাতিত করার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেয় ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জোট ‘দ্য ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’। তারা দাবি করে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) ব্যবহারের মাধ্যমে জোটের যোদ্ধারা উড়োজাহাজটিকে ভূপাতিত করেছে। 

হেগসেথ : ১৫,০০০-এর বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত

পিট হেগসেথ শুক্রবার দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলার ফলে ইরানের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। পেন্টাগনের ওই ব্রিফিংয়ে হেগসেথ বলেন, ‘ইরানের কোনো বিমান প্রতিরক্ষা নেই, ইরানের কোনো বিমান বাহিনী নেই, ইরানের কোনো নৌবাহিনী নেই।’

তিনি আরও দাবি করেন, ‘তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পরিমাণ ৯০% কমে গেছে। তাদের ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন গতকাল ৯৫% কমে গেছে এবং বিশ্ব যেমনটা দেখছে, তারা হরমুজ প্রণালীতে নিছক হতাশা প্রদর্শন করছে, যা আমরা মোকাবিলা করছি।’

হেগসেথের মতে, মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হাজার হাজার হামলা চালিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের বিমান বাহিনী এবং ইসরায়েলিদের বিমান বাহিনীর মধ্যে ১৫,০০০-এর বেশি শত্রুর লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়েছে। এটি দিনে ১,০০০-এরও বেশি। আমরা তাদের সমস্ত অর্থপূর্ণ সামরিক সক্ষমতাকে এমন গতিতে পরাস্ত, ধ্বংস এবং নিষ্ক্রিয় করার পরিকল্পনায় আছি যা বিশ্ব আগে কখনও দেখেনি।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘খুব শিগগিরই ইরানের সমস্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাবে।’

হেগসেথ : ইরানের নতুন নেতা ‘আহত’ হয়েছেন, বিবৃতির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সচিব ব্রিফিংয়ে দাবি করেছেন যে, ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি ‘আহত এবং সম্ভবত বিকৃত’ হয়েছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইরানের নেতৃত্বের অবস্থাও ভালো নয়। তারা হতাশ এবং লুকিয়ে ভূগর্ভে চলে গেছে, ইঁদুরের মতো ভয়ে কুঁকড়ে আছে।’

তিনি আরও বলেন, “আমরা জানি নতুন তথাকথিত ‘নট সো সুপ্রিম লিডার’ আহত এবং সম্ভবত বিকৃত।”

প্রতিরক্ষা সচিব ইরানের নতুন নেতার প্রথম কথিত বার্তার সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন, যা দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পড়ে শোনানো হয়েছিল।

হেগসেথ বলেন, ‘তিনি গতকাল একটি বিবৃতি দিয়েছেন, আসলে একটি দুর্বল বিবৃতি, কিন্তু সেখানে কোনো কণ্ঠস্বর ছিল না এবং কোনো ভিডিও ছিল না।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘ইরানের প্রচুর ক্যামেরা এবং প্রচুর ভয়েস রেকর্ডার আছে, তাহলে কেন একটি লিখিত বিবৃতি? আমি মনে করি আপনি জানেন কেন। তার বাবা মৃত। তিনি ভীত, তিনি আহত, তিনি পালাচ্ছেন এবং তার বৈধতার অভাব রয়েছে। এটি তাদের জন্য একটি জগাখিচুড়ি পরিস্থিতি।’

সূত্র : সিএনএন