রাজশাহী জজকোটে পতাকা তোলা সাহসী আফজাল হোসেন ছবি
রাজশাহীর ছাত্র তরুণ যুবকদের কাছে চলে আসে বিপ্লবী বই। ২১মার্চ সন্ধ্যায় জেলা সদরের বোয়ালিয়া থানার পাশে একটি বাড়িতে স্বাধীন বাংলা পতাকার নমুনা ও ইস্তেহার এসেছে শুনে কয়েক জন নেতা খুবই কৌশলে সেখান থেকে সেগুলি সংগ্রহ করে সিদ্ধান্ত নেন ২৩ মার্চ পাকিস্তান দিবসে পতাকা তুলা হবে। ছাত্র নেতা শরিফ উদ্দিনদের কাপড়ের দোকান থেকে কাপড় নেবার পর সাহেব বাজারের দর্জি শামসুল কয়েকটি পতাকা তৈরি করেন। ২২মার্চ শুনাগেল সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর করবে কিন্তু তাহল না। ২৩মার্চ সকালে ভুবোনমোহন পার্কে পতাকা তুলতে সহযোগিতা করেন অবাঙালি নেতা হাফেজ সাত্তার (শহিদ) এবং নিষিদ্ধ পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি এমএল নেতা বীরমুক্তি যোদ্ধা ফেরদোস দৌলাখান বাবলু (শহিদ) ডিআইজি মামুন মাহমুদ (শহিদ) এর সহযোগিতায় পুলিশ লাইনে পতাকা তুলেন হাবিলদার আতাউর (শহিদ) ।ছাত্র-জনতার মিছিল জজকোট চত্বরে গেলে পরিবেশ অন্যরকম হয়ে গেল।
সিদ্ধান্ত হল সেনাবাহিনী উপস্থিতেই যেকোন মূল্যে জজকোট ভবনে পতাকা তুলতেই হবে।এই কাজ কে করবে কানা কানির মধ্যে সকলকে অবাক করে দিয়ে দায়িত্বটি পড়ে ছাত্র নেতা বীরমুক্তি যোদ্ধা আফজাল হোসেন ছবির উপর। ভয় বাধা ঝুঁকি উপেক্ষা করে তিনি পতাকা নিয়ে দৌড়ে সিঁড়ির কাছে গিয়ে সিঁড়ি দিয়ে জজকোটের ছাদে উঠে প্লাগ স্টান্ডে পতাকা তুলে দিতেই নানা শ্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে জজকোর্ট চত্বর। ২৩ মার্চ পতাকা তুলার ইতিহাসে সাহসি আফজাল হোসেনের নাম লেখা হয়ে গেল। ২০১৭ সালের ১৪ জানুয়ারি হোসেন এন্টারপ্রাইজ সিসি লিমিটেডের মহাপরিচালক বীরমুক্তি যোদ্ধা আফজাল হোসেন ছবি ঢাকায় তার বেলি রোডের অফিসে একান্ত সাক্ষাৎ কারে বলেন সেদিন ছাত্রজন তার ঐক্য তাকে সাহসী করে তুললে সেটি ধারণ করে তিনি তার দায়িত্ব পালন করেন। এই প্রেরণায় তিনি পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
লেখক : তথ্যসংগ্রাহক রাজশাহী