মেটাকে বড় অঙ্কের জরিমানা

Meta fined a large sum
অনলাইন ডেস্ক ২৫ মার্চ ২০২৬ ০২:১০ অপরাহ্ন তথ্যপ্রযুক্তি
অনলাইন ডেস্ক ২৫ মার্চ ২০২৬ ০২:১০ অপরাহ্ন
মেটাকে বড় অঙ্কের জরিমানা
--সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের একটি জুরি রায়ে জানিয়েছে, ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছে মেটা। তাদের প্ল্যাটফর্মে শিশুদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা গুনতে হবে।

মামলাটি করেছিলেন নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল তোরেজ। তার অভিযোগ, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে মেটা। এমনকি প্ল্যাটফর্মগুলোতে শিশু যৌন শোষণের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

ছয় সপ্তাহ ধরে চলা শুনানি শেষে জুরি এক দিনেরও কম সময় আলোচনার পর সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। তারা মনে করেন, মেটা নিউ মেক্সিকোর ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন করেছে। আদালত জানায়, প্রতিষ্ঠানটি মোট ৭৫ হাজার বার আইন ভঙ্গ করেছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে ৫ হাজার ডলার করে জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রায়ের পর এক বিবৃতিতে রাউল তোরেজ বলেন, এটি শিশু ও পরিবারের জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক জয়’। তার ভাষায়, “কোনো কোম্পানি আইনের ঊর্ধ্বে নয়— এই বার্তাই স্পষ্ট হয়েছে।”

তবে রায়ের সঙ্গে একমত নয় মেটা। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে। তাদের দাবি, প্ল্যাটফর্মে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা নিয়মিত কাজ করছে এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট শনাক্ত ও অপসারণ করা একটি জটিল প্রক্রিয়া।

মামলার শুনানিতে রাজ্যপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, মেটা দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের সুরক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি। প্ল্যাটফর্মে প্রিডেটরদের অবাধ প্রবেশের সুযোগ ছিল। যা বাস্তব জীবনে নির্যাতন ও মানবপাচারের ঘটনাও বাড়িয়েছে।

অন্যদিকে, মেটার আইনজীবীরা আদালতে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নানা ব্যবস্থা নিয়েছে এবং ব্যবহারকারীদের কাছে বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। তাদের দাবি, ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো তথ্য গোপন করা হয়নি।

এই মামলার সূত্রপাত ২০২৩ সালের একটি গোপন তদন্ত থেকে। তদন্তকারীরা ১৪ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীর পরিচয়ে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে অ্যাকাউন্ট খুলে দেখেন, সেখানে তারা অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন বার্তা ও প্রাপ্তবয়স্কদের যোগাযোগের শিকার হচ্ছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ আরও বাড়াবে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে যে বিতর্ক চলছে, তা নতুন মাত্রা পাবে।

এদিকে, মেটার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আরও হাজারো মামলা চলমান রয়েছে। এসব মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি এমনভাবে প্ল্যাটফর্ম ডিজাইন করেছে যা তরুণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে আসক্তি তৈরি করে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

সব মিলিয়ে, এই রায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। আগামী মে মাসে মামলার পরবর্তী ধাপে আদালত মেটাকে প্ল্যাটফর্মে পরিবর্তন আনার নির্দেশ দিতে পারে বলেও জানা গেছে।