রুয়েটে প্রথমবারের মতো রিভার্স ওসমোসিস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট চালু: নিরাপদ পানির প্রত্যাশায় শিক্ষার্থীরা

Reverse osmosis water treatment plant launched
রুয়েট প্রতিনিধি ৩১ মার্চ ২০২৬ ০২:০৫ অপরাহ্ন সারা বাংলা
রুয়েট প্রতিনিধি ৩১ মার্চ ২০২৬ ০২:০৫ অপরাহ্ন
রুয়েটে প্রথমবারের মতো রিভার্স ওসমোসিস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট চালু: নিরাপদ পানির প্রত্যাশায় শিক্ষার্থীরা

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)-এ প্রথমবারের মতো প্রাথমিক ও পরীক্ষামূলকভাবে চালু হতে যাচ্ছে রিভার্স ওসমোসিস (RO) ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট। দীর্ঘদিনের আয়রনযুক্ত পানির সমস্যার সমাধানে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা, যা আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পানীয় জল নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন নির্মিত চারটি আবাসিক হল—মেল হল-১, মেল হল-২, ফিমেল হল-১ (নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল) এবং ফিমেল হল-২— এই চারটি হলের ছাদে ইতোমধ্যে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপনাসহ সকল কারিগরি কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা।

রুয়েটের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের আওতায় এবং এর পরিচালক অধ্যাপক ড. এইচ. এম. রাসেলের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি জানান, “ মাননীয় উপাচার্যের নির্দেশনায় প্রাথমিকভাবে নতুন চারটি হলে এই প্লান্ট চালু করা হয়েছে। রাজশাহী অঞ্চলে আয়রনসমৃদ্ধ পানির যে দীর্ঘদিনের সমস্যা রয়েছে, এই উদ্যোগ তার কার্যকর সমাধান দিতে পারবে বলে আমরা আশাবাদী। ভবিষ্যতে প্রকল্পটি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।"

রিভার্স ওসমোসিস প্রযুক্তি একটি আধুনিক পানি পরিশোধন পদ্ধতি, যেখানে বিশেষ ঝিল্লির মাধ্যমে পানির ক্ষতিকর উপাদান, অতিরিক্ত লবণ, আয়রনসহ বিভিন্ন অমেধ্য অপসারণ করা হয়। ফলে এটি নিরাপদ, স্বচ্ছ ও স্বাস্থ্যসম্মত পানীয় জল সরবরাহে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য নতুন হলের প্রভোস্ট ও সহকারী প্রভোস্টরা পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. এইচ. এম. রাসেল সহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ প্লান্ট চালুর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের পানির মানগত সমস্যার স্থায়ী সমাধান মিলবে এবং আবাসিক জীবনে স্বস্তি ফিরে আসবে। পাশাপাশি দ্রুতই এই সুবিধা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য হল ও স্থাপনাতেও সম্প্রসারণ করা হবে বলে তারা প্রত্যাশা করেন।

উল্লেখ্য, নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে রুয়েট প্রশাসনের এই উদ্যোগকে ক্যাম্পাসের জীবনমান উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।