চীনে গড় আয়ু বেড়ে ৭৯, বাংলাদেশে ৭৩ বছর

Average life expectancy in China rises to 79, in Bangladesh to 73 years
অনলাইন ডেস্ক ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ১২:০৩ অপরাহ্ন স্বাস্থ্য
অনলাইন ডেস্ক ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ১২:০৩ অপরাহ্ন
চীনে গড় আয়ু বেড়ে ৭৯, বাংলাদেশে ৭৩ বছর
---- সংগৃহীত

২০২৫ সালে চীনের মানুষের গড় আয়ু বেড়ে ৭৯ বছর ৩ মাসে দাঁড়িয়েছে যা দেশটির স্বাস্থ্যখাতের ধারাবাহিক উন্নয়নের ফল। অন্যদিকে বাংলাদেশে গড় আয়ু বর্তমানে প্রায় ৭২-৭৩ বছরের মধ্যে রয়েছে। ফলে গড় হিসাবে চীনাদের গড় আয়ু বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় ৫ থেকে ৬ বছর এগিয়ে।

২০২৫ সালে চীনাদের গড় আয়ু ২০২০ সালের তুলনায় ১ দশমিক ৩২ বছর বেশি। সম্প্রতি দেশটির বার্ষিক আইনসভা অধিবেশনের ফাঁকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের প্রধান লেই হাইছাও।

তিনি গত পাঁচ বছরকে চীনের স্বাস্থ্য খাতের জন্য উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির সময় হিসেবে বর্ণনা করেন। এ সময়ে তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে রোগীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালে দেশের মোট চিকিৎসা ও রোগনির্ণয় সেবার ৫২ দশমিক ৬ শতাংশই এসব প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সম্পন্ন হয়েছে।

লেই হাইছাও জানান, শহর ও গ্রামাঞ্চল উভয় এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে দেশটির ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ তাদের নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে মাত্র ১৫ মিনিটের হাঁটা দূরত্বে অবস্থান করেন।

তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালে চীনে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১১ লাখ ছাড়িয়েছে এবং স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা ১ কোটি ৬০ লাখের বেশি হয়েছে। এই বিস্তৃত স্বাস্থ্যব্যবস্থা ১৪০ কোটি মানুষের মৌলিক চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

স্বাস্থ্যব্যবস্থার আরও উন্নয়ন এবং জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা জোরদারে সরকার কাজ করছে জানিয়ে লেই বলেন, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার আওতায় গড় আয়ু প্রায় ৮০ বছরে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এ-সংক্রান্ত এক জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে প্রত্যাশিত গড় আয়ু দাঁড়িয়েছে ৭২ দশমিক ৩ বছর, আগের বছর যা ছিল ৭২ দশমিক ৪ বছর। মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার, গ্রামীণ পর্যায়ে চিকিৎসা সহজলভ্য করা এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় গুরুত্ব বাড়াতে পারলে বাংলাদেশেও গড় আয়ু আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।