গোদাগাড়ীতে হামের সংক্রমণ রুখতে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু: ৪৩ হাজার শিশু টিকার আওতায়

Special vaccination program begins in Godagari to prevent measles infection
মুক্তার হোসেন,গোদাগাড়ী(রাজশাহী): ০৫ এপ্রিল ২০২৬ ০৫:৪১ অপরাহ্ন সারা বাংলা
মুক্তার হোসেন,গোদাগাড়ী(রাজশাহী): ০৫ এপ্রিল ২০২৬ ০৫:৪১ অপরাহ্ন
গোদাগাড়ীতে হামের সংক্রমণ রুখতে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু: ৪৩ হাজার শিশু টিকার আওতায়
গোদাগাড়ীতে হামের সংক্রমণ রুখতে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ৯টায় উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পৌরসভার বিভিন্ন অস্থায়ী কেন্দ্রে একযোগে এই টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়।

সকাল থেকে উপজেলার মোট ২৮টি স্থায়ী এবং পৌরসভার ৩টি অস্থায়ী কেন্দ্রে টিকাদান শুরু হয়েছে। এদিন ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী (৫৯ মাস) শিশুদের এই টিকা দেওয়া হয়। একটি ভায়ালে ৫ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হচ্ছে। কর্মসূচির প্রথম দিনে গোদাগাড়ী উপজেলায় ৫ হাজার ৬৫০ জন এবং পৌরসভায় ৬২৮ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলার মাটিকাটা কমিউনিটি ক্লিনিকে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, রাজশাহী  সিভিল সার্জন এস আই রাজিউল ইসলাম,পরিবার পরিকল্পনা রাজশাহীর উপপরিচালক আব্দুর রাজ্জাক।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুস সাদত রত্ন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হাসানুল জাহিদ এবং মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মোমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

রোববার থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ কর্মসূচি আগামী ৩ সপ্তাহ পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। পুরো তিন সপ্তাহে গোদাগাড়ী পৌরসভায় ২৫টি কেন্দ্রে ৬ হাজার ৯৭৭ জন এবং উপজেলায় ২১৭টি কেন্দ্রে ৩৬ হাজার ১৯০ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “হামের সংক্রমণ রোধে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এই বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছি। এটি সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হবে। আমাদের লক্ষ্য উপজেলার প্রতিটি শিশুকে এই সুরক্ষার আওতায় নিয়ে আসা। পর্যায়ক্রমে আমরা সকল শিশুকে টিকার আওতায় আনবো যাতে সংক্রমণ আর না ছড়াতে পারে।”

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক এ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা বলেন হামের এই প্রাদুর্ভাবের জন্য অর্ন্তর্বতীকালীন সরকারকে দায়ী করে বক্তব্য রাখেন।

রাজশাহী  সিভিল সার্জন এস আই রাজিউল ইসলাম জানান, এই টিকা শতভাগ নিরাপদ এবং এটি নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, যারা বর্তমানে হামে আক্রান্ত হয়েছে তাদের এই মুহূর্তে টিকার আওতায় আনা হবে না। যারা সুস্থ কেবল তারাই টিকা পাবে। তবে আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত সুস্থতার জন্য ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। একইভাবে ৬ মাসের নিচে যারা আক্রান্ত, তাদেরও ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে।

সংক্রমণ পরিস্থিতি: উপজেলায় রোববার সকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত ২৭ জনের মধ্যে ১৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, যার মধ্যে ৮ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। বর্তমানে ৪ জন শিশু প্রেমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।