বাবুডাইং আলোর পাঠশালা পরিদর্শন বেলজিয়াম পর্যটকদের
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত বাবুডাইং আলোর পাঠশালা পরিদর্শন করলেন চার বেলজিয়াম পর্যটক। মঙ্গলবার তাঁরা ‘বাংলাদেশ ইকো এডভেঞ্চার’ নামে একটি পর্যটন সংস্থার মাধ্যমে আসেন। তাঁরা হলেন লেখক ও শিক্ষক গ্রেগরি (৫৫), তাঁর স্ত্রী হেলা, সরকারি চাকুরিজীবী ইভস (৫৬) ও তাঁর স্ত্রী গবেষক ক্যাটরিন (৬০)। তাঁরা প্রায় ২০ থেকে ২৫ দিনের জন্য বাংলাদেশ সফরে এসেছেন। তাঁরা এসময় তাঁদের গাইড হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফ্রিদি।
সকাল সোয়া ১০টায় বিদ্যালয়ের ফটকের কাছে আসলে তাঁদের ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করেন নেয় শিক্ষার্থীরা। এসময় কোল ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বার গানের সঙ্গে নাচতে নাচতে অতিথিদের বিদ্যালয়ে নিয়ে আসে শিক্ষার্থীরা। এরপর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অতিথিদের সামনে নাচ-গান উপস্থাপন করে সাংস্কৃতিক দলের সদস্যরা। অতিথিরাও নাচের দলের সঙ্গে অংশ নেন নাচে।
এরপর অনুষ্ঠিত হয় এসেম্বলি। এসেম্বলি শেষে শিক্ষার্থীদের অতিথিদের সামনে ১২টি পিটি প্রদর্শন করে। তা দেখে ইভস বলেন, এমন প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ স্কুলটি যেন আলোর দিশারী হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষার্থীদের পিটি দেখে খুবই অভিভূত হয়েছি।
এসময় তাঁদের বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষ ঘুরিয়ে দেখান প্রধান শিক্ষক আলী উজ্জামান নূর। তাঁরা পঞ্চম শ্রেণির কক্ষে গিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়া উপভোগ করেন। তাঁদের গান গেয়ে শোনায় শিক্ষার্থী হালিমা খাতুন। অতিথিরাও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গানে অংশ নেয়। সঙ্গে নাচও করেন।
হেলা বলেন, ‘স্কুলের অপূর্ব সৌন্দর্য্য, চমৎকার শিক্ষকবৃন্দ, শিশুদের সার্বক্ষণিক হাসিমুখ, সকলের স্বদ্ব্যবহার দেখে আমাদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। স্কুলটি যেন সুখ ও ভালোবাসায় পরিপূর্ণ।’ বাবুডাইং আলোর পাঠশালা পরিদর্শনে এসে এমন মন্তব্য করেন বেলজিয়াম নাগরিক প্রকৌশলী হেলা (৪৮)।
আফ্রিদি বলেন, এ চারজন বেলজিয়াম থেকে ভ্রমণের জন্য বাংলাদেশে এসেছেন। তাঁরা রাজশাহী এসেছেন শুধুমাত্র বাবুডাইং আলোর পাঠশালা দেখার জন্য। স্কুলের পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত মেলামেশা ও শিক্ষকদের আতিথিয়তা দেখে তাঁরা খুবই খুশি।