গোদাগাড়ীতে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ
পুষ্টি বৈষম্যের দিন শেষ হোক, গড়ে তুলব একটি আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ"—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে সপ্তাহব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ-২০২৬’ এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বেলা সাড়ে ১২টায় প্রেমতলীস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলনায়তনে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে ও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের বাস্তবায়নে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুস সাদাত রত্নর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ হাসানুল জাহিদ। এছাড়াও বিশেষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সায়লা শারমিন, কৃষি কর্মকর্তা মরিয়ম আহমেদ, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ওয়াহিদুজ্জামান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী কর্মকর্তা মনজেল হোসেন, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুল মানিক ও একাডেমিক সুপারভাইজার মোহাম্মদ আব্দুর রহমান।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও নাজমুস সাদাত রত্ন বলেন, "একটি মেধাবী ও সুস্থ জাতি গঠনে সুষম পুষ্টির কোনো বিকল্প নেই। সরকার পুষ্টি বৈষম্য দূর করতে বদ্ধপরিকর। আমাদের প্রান্তিক পর্যায়ের প্রতিটি মানুষের কাছে পুষ্টিবার্তা পৌঁছে দিতে হবে যাতে কেউ পুষ্টিহীনতায় না ভোগে।"
ডা. মুহাম্মদ হাসানুল জাহিদ তার বক্তব্যে বলেন, "পুষ্টি সপ্তাহ পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ মানুষকে খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে সচেতন করা। শুধু দামি খাবার খেলেই পুষ্টি পাওয়া যায় না, বরং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত শাক-সবজি, ফলমূল, মাছ ও প্রাণিজ আমিষের সঠিক সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।"
প্রাণিসম্পদ ও কৃষি কর্মকর্তারা তাদের বক্তব্যে পুষ্টির চাহিদা মেটাতে বাড়ির আঙিনায় শাক-সবজি চাষ এবং হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, কৃষিজ ও প্রাণিজ আমিষের সঠিক উৎপাদন ও ব্যবহারই আমাদের আত্মনির্ভরশীল হতে সাহায্য করবে।
অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন আরএমও ডা. ফিরোজা খাতুন ও ডা. মৌমিতা রহমান। আলোচনা সভা শেষে সপ্তাহব্যাপী আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্যকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।