ডিবি

আধিপত্য নিয়ে দ্বন্দ্ব, জড়িতদের গ্রেপ্তারে কাজ চলছে

At the press conference
অনলাইন ডেস্ক ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:২৭ অপরাহ্ন সারা বাংলা
অনলাইন ডেস্ক ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:২৭ অপরাহ্ন
আধিপত্য নিয়ে দ্বন্দ্ব, জড়িতদের গ্রেপ্তারে কাজ চলছে
--সংগৃহীত ছবি

নিউমার্কেট এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এলাকায় আধিপত্য ও হাট ইজারা নিয়ে দ্বন্দ্বে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে ডিএমপির সদরদপ্তরে বিপুল পরিমাণ হেরোইন, ইয়াবা ও গাঁজাসহ মাদক উদ্ধার সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল ইসলাম বলেন, আপনারা জানেন তিনি (টিটন) নিজেও একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিল। প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কারা জড়িত আমরা সে বিষয়ে তদন্ত করছি। খোঁজখবর নিচ্ছি, যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, মোহাম্মদপুরের বসিলার গরুর হাট নিয়ে সন্ত্রাসীদের দ্বন্দ্ব ছিল। এই ঘটনায় পিচ্চি হেলাল ও কাইল্লা বাদলসহ অনেকের নাম উল্লেখ রয়েছে—এ বিষয়ে জানেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, মামলা হয়েছে। বাদী যাদের নাম উল্লেখ করেছেন আমরা কাজ করছি। আধিপত্য নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। আপনারা জানেন সামনে কোরবানি, গরুর হাট নিয়েও দ্বন্দ্ব ছিল। এই হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত সেটি উদ্‌ঘাটন করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাট ইজারাকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ড আরও ঘটতে পারে। প্রতিরোধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করছি। হাটকে কেন্দ্র করে যেন কোনোভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে সেই বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারি বাড়ানো হবে।

বিদেশে বসে হত্যার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়ে ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অতীতে এমন কর্মকাণ্ড অনেকেই করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় বিদেশে অবস্থানরত কারও সংশ্লিষ্টতা পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি যাদের এমন অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণে দোষী সাব্যস্ত করা হবে, তাদের জন্য ইন্টারপোলে চিঠি দেওয়া হবে। এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।

আরসা গ্রুপের চার সদস্য গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ডে আসলে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানা যাবে। আমরা জেনেছি, তারা সন্ত্রাসী সংগঠন, তারা এতদিন বিভিন্নভাবে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।"

উগ্রবাদীরা আসলেই মাথাচাড়া দিচ্ছে কি না, নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে—জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাথাচাড়া দিচ্ছে এমনটা বলব না। আমি শুধু বলব যারা এসব কাজে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতীতেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আগামীতে যারা জড়াবে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অতীত সরকারের সময়ে জঙ্গি নাটক সাজানো হতো, বর্তমানে কর্মকাণ্ডগুলো নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা জানতে চাইলে শফিকুল ইসলাম বলেন, কোনো আসামিকে ধরে নাটক সাজানোর কাজ পুলিশের না। পুলিশের কাজ হলো যে অপরাধী তাকে আইনের আওতায় আনা। এই ব্যাপারে আমরা সজাগ রয়েছি।