জাহাজভাঙা শিল্পে নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে উদ্বেগ, সেফটি কমিটির সভা

Safety Committee Meeting
অনলাইন ডেস্ক ০৪ মে ২০২৬ ০৫:৫৭ অপরাহ্ন জাতীয়
অনলাইন ডেস্ক ০৪ মে ২০২৬ ০৫:৫৭ অপরাহ্ন
জাহাজভাঙা শিল্পে নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে উদ্বেগ, সেফটি কমিটির সভা
সংগৃহীত ছবি

দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও জাহাজভাঙা শিল্পে শ্রমিকদের নিরাপত্তাহীনতা এখনো কাটেনি—এমন উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে জাহাজভাঙা শ্রমিক সেফটি কমিটির এক সভায়। 

সোমবার (৫ মে) বিলস-এলআরএসসি কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সেফটি কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আবসার এবং সঞ্চালনা করেন বিলস চট্টগ্রাম কেন্দ্রের কোঅর্ডিনেটর ফজলুল কবির মিন্টু।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাজভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক এ এম নাজিম উদ্দিন। এছাড়া সেফটি কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ আলী, যুগ্ম সদস্য সচিব মো. ইদ্রিসসহ বিভিন্ন শ্রমিকনেতা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ এম নাজিম উদ্দিন বলেন, দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখলেও জাহাজভাঙা শিল্পে কর্মরত শ্রমিকরা প্রতিনিয়ত জীবনঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ এবং পরিবেশগত মানদণ্ডের অভাবে দুর্ঘটনা, পেশাগত রোগ ও পরিবেশ দূষণ এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ সরকার ২০২৩ সালের ২৬ জুন হংকং কনভেনশনে অনুস্বাক্ষর করে এবং ২০২৫ সালের ২৬ জুন থেকে এর বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক হয়েছে। তবে এই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড কার্যকর হলেও শিল্পে পেশাগত স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় প্রত্যাশিত উন্নয়ন এখনো দৃশ্যমান নয়।

সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, উৎপাদনের পেছনে শ্রমিকের জীবনই সবচেয়ে মূল্যবান হলেও বাস্তবে তারা অনিরাপদ পরিবেশে কাজ করছেন। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড ও বিষাক্ত গ্যাসের ঝুঁকি তাদের পিছু ছাড়ছে না।

বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দয়া নয়, বরং শ্রমিকের মৌলিক অধিকার। শ্রমিকদের জীবন ও মর্যাদা রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তারা।

সভায় বিলস চট্টগ্রাম কেন্দ্র ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসের দুর্ঘটনার তথ্য উপস্থাপন করে। এতে দেখা যায়, এ সময়ে জাহাজভাঙা শিল্পে কর্মক্ষেত্রের দুর্ঘটনায় অন্তত তিনজন শ্রমিক নিহত হয়েছেন, যা উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়।