দেশে বিপুল পরিমাণ ওয়াকফ করা অর্থ-সম্পত্তি বেহাত হয়ে যাচ্ছে : ধর্ম সচিব

Religion Secretary
নিজস্ব প্রতিবেদক : ০৪ মে ২০২৬ ০৮:১৩ অপরাহ্ন জাতীয়
নিজস্ব প্রতিবেদক : ০৪ মে ২০২৬ ০৮:১৩ অপরাহ্ন
দেশে বিপুল পরিমাণ ওয়াকফ করা অর্থ-সম্পত্তি বেহাত হয়ে যাচ্ছে : ধর্ম সচিব
--সংগৃহীত ছবি

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ (এনডিসি) বলেছেন, মুসলিম ধর্মের অনেক সম্পদশালী ব্যক্তিরা নিজেদের জীবদ্দশায় এসে বা সমাজ হিতৈষী কার্যক্রমের উদ্দেশ্যে উত্তরাধিকারদের না দিয়ে বা তাদের বিষয়টা না রেখে, প্রতিষ্ঠিত দেশে-বিদেশে চলে গেছেন, তাদের সয়-সম্পত্তি জনকল্যাণে ওয়াকফ করে দেন।

তিনি বলেন, ওয়াকফ আউলাদ, ওয়াকফ লিল্লাহ দুই রকম আছে, যে তাদের সন্তানরাই দেখাশোনা করবেন, কিন্তু ওয়েলফেয়ার অ্যাক্টিভিটিজ থাকবে। আর অন্যটা তো জানেনই। তো এই সম্পত্তি বেহাত হয়ে যাচ্ছে।

সোমবার (৪ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের পর ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

ধর্ম সচিব বলেন, দেশে বিপুল পরিমাণ ওয়াকফ অর্থ-সম্পত্তি আছে। লাখ লাখ একর জমি। এগুলো সাংঘাতিক দুরবস্থার মধ্যে আছে। এটা জেলা প্রশাসকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। কিন্তু এই জেলা পর্যায়ে তারাই এগুলোর রক্ষক। আইন প্রয়োগ করে উদ্ধারের দায়িত্বও তাদের। নানান ব্যস্ততা ও সঠিক ধারণাও হয়ত না থাকার কারণে এই সমস্যা আসছে। আজকের সম্মেলনে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার একটি ডাটাবেজ করার অনুরোধ জানিয়েছেন। আমরা এই বিষয়গুলো দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি।

তিনি বলেন, এরই মধ্যে ডাটাবেজ হয়ে গেছে, কোন দাগে কত সম্পত্তি, কোথায় কী, সেগুলো আসার পর এটা উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হবে, আশা করি। এবং একই সঙ্গে দেবোত্তর সম্পত্তি, অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও এই ধরনের সম্পত্তি আছে।

অনেকেই লিস্ট নিয়ে পরে তারা মালিক সেজে যায় এবং দখল ছাড়ে না। অনেকে আবার দেওয়ানী আদালতে চলে আসে। সেসব বিষয়ে আইন-কানুনের হয়ত কিছু পরিবর্তন দরকার হবে। তবে সেগুলো যুগোপযোগী করার জন্য সরকার উদ্যোগ নেবে।

দেশে ৭৭ হাজারের ওপরে মসজিদ ভিত্তিক ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম আছে জানিয়ে মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, সকালবেলা অর্থাৎ সরকারি স্কুলের সময়সূচির আগে, এটা আমাদের দুই ঘণ্টার সময়, ৬টা থেকে ৮টা। এই সময়টা সরকারি স্কুলের সময়সূচির সঙ্গে কাছাকাছি হয়। ওই ছেলেরা কেজি স্কুল, অন্য দিকে চলে যেতে চায় এবং অনেক সময় এই দুই ঘণ্টার ক্লাস হচ্ছে না। এই বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। আর নৈতিক শিক্ষার ওপর জোর দিয়েছেন, যে সমস্ত শিক্ষাকার্যের চরিত্রবান চরিত্র গঠন সংক্রান্ত বিষয়। এটা আমাদের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যে কারিকুলাম, ওখানে পড়ান, তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত আছে। তো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা, যে আরও কী কী আদর্শলিপি, যে সব নৈতিক বাক্য থাকতো বা শিক্ষণীয় উদাহরণ, সেগুলো যদি আসে, সেগুলো আমরা অন্তর্ভুক্ত করব। তবে আমাদের যে কার্যক্রম আছে, সেটা কার্যকর, উপযোগী এবং কার্যকরী।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার, এই গণতান্ত্রিক সরকার। যে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আসছে, তাতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত ব্যক্তি যেমন মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, অন্যান্য ধর্মের পুরোহিত, সেবায়িত, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, মঠ, বিহারের যারা আছেন, এদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি এবং আর্থিক নিরাপত্তার জন্য ভাতা চালু করেছেন।

ধর্ম সচিব বলেন, পাইলটিং হয়ে গেছে এবং সারা দেশে মসজিদের সংখ্যায় তিন লাখের ওপরে। এটা আমরা ২০% সামনের অর্থবছর অর্থাৎ জুলাই থেকে আসবে। ১১০০ কোটি টাকার অর্থমন্ত্রণালয় থেকে অলরেডি অ্যাপ্রুভ হয়ে গেছে। পর্যায়ক্রমে সব মসজিদে নিয়ে আসব। এইটা আপনাদের একটা অনুরোধ করব যে এইটা দেখে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যেন ব্যাঙের ছাতার মতো না গজায়ে ওঠে। প্রয়োজনের বাইরে অনেক জায়গায় দেখা যায়। আমরা আগে শুনতাম আযান যতদূর যায়, সে পর্যন্ত মসজিদ দরকার নেই। তো জনসংখ্যার ঘনত্বের জন্য হয়ত প্রয়োজন আছে। কিন্তু এই সুবিধা নেওয়ার জন্য যেন ব্যাঙের ছাতার মতো মসজিদ-মন্দির না গড়ে ওঠে।