গোদাগাড়ীতে আদিবাসী গ্রামের একমাত্র পুকুর ইজারা, সংকটে ৭০–৮০ পরিবার
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ৭ নম্বর দেওপাড়া ইউনিয়নের পাথরঘাটা মৌজায় অবস্থিত ‘গণকের ডইং’ আদিবাসী গ্রামের একমাত্র ব্যবহার্য খাস পুকুর ইজারা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ ও ক্ষোভ। স্থানীয় আদিবাসী বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের মানুষ দৈনন্দিন প্রয়োজন ও ধর্মীয় কার্যক্রমে পুকুরটি ব্যবহার করে এলেও সম্প্রতি সেটি একটি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিকে লিজ দেওয়ায় তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানায় গ্রামটিতে প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি আদিবাসী পরিবারের বসবাস। গোসল, রান্নাবান্না, ধোয়া-মোছাসহ দৈনন্দিন নানা কাজে গ্রামের মানুষের একমাত্র পানির উৎস এই খাস পুকুর। পুকুরটির পাশেই রয়েছে গ্রামের পবিত্র গীর্জা, ফলে ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও এটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বাংলা ১৪৩৩ থেকে ১৪৩৫ সনের জন্য পুকুরটি ‘গহমাবোনা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে একটি সমিতির কাছে ইজারা দেওয়া হয়েছে। সমিতিটি পবা উপজেলার হলেও পুকুরটি গোদাগাড়ী উপজেলার একটি আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় অবস্থিত।
এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, অন্য উপজেলার একটি সমিতিকে কীভাবে এই পুকুর ইজারা দেওয়া হলো,স্থানীয় আদিবাসী বাসিন্দারা বলেন, এটি শুধু একটি পুকুর নয়, আমাদের জীবনযাত্রার অংশ। এই পানি ছাড়া আমাদের চলার আর কোনো উপায় নেই। পুকুরটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হলে আমরা মারাত্মক সংকটে পড়ব।
তাঁরা আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে নিয়ম মেনে ভূমি অফিসের তত্ত্বাবধানে পুকুরটি ব্যবহার করে আসছিলেন তাঁরা। কিন্তু সাম্প্রতিক ইজারার কারণে পুকুরে প্রবেশ ও ব্যবহার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে,এ পরিস্থিতিতে পবা উপজেলার সমিতিকে দেওয়া লিজ বাতিল করে পুকুরটি স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা।
এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নাসির উদ্দিন, গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং উপজেলা ভূমি অফিস সমন্বিতভাবে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন বলে জানা গেছে,সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, স্থানীয় মানুষের ভোগান্তি ও মানবিক দিক বিবেচনায় সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা চলছে,স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, মানুষের মৌলিক প্রয়োজন ও জীবনযাত্রার সঙ্গে জড়িত খাস সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রশাসনের আরও মানবিক ও জনস্বার্থভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে প্রান্তিক ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকার প্রশ্নে সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।