১০ দিনেও উদ্ধার করতে পারেনি রাজশাহীর চারঘাটে অপহৃত স্কুলছাত্রীকে
রাজশাহীর চারঘাটে অপহৃত স্কুলছাত্রী মোসা. উমাইয়া বুশরাকে (১৪) ১০ দিনেও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এই প্রক্রিয়ায় পুলিশের এক সদস্যের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা ও অর্থ দাবির গুরুতর অভিযোগ তুলে আজ রোববার সকালে রাজশাহীর পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন নিখোঁজ ছাত্রীর বাবা-মা।
উমাইয়া বুশরা উপজেলার হাবিবপুর এলাকার মো. মিজানুর রহমানের মেয়ে এবং নন্দনগাছী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী।
পরিবার ও অভিযোগপত্র সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ এপ্রিল সকালে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেনি বুশরা। ঘটনার পর চারঘাট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং ১২৯১) করা হলেও এখন পর্যন্ত তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
উদ্ধার প্রক্রিয়ায় পুলিশের এক সদস্যের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা ও অর্থ দাবির অভিযোগ করেছেন বুশরার বাবা মো. মিজানুর রহমান ও মা মোসা. সেলেনা বেগম। আজ রোববার সকালে তারা যৌথ স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগপত্র পুলিশ সুপারের কাছে জমা দেন।
তাদের দাবি, তদন্তের একপর্যায়ে মামলা গ্রহণ ও কার্যকর পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়ে পুলিশের এক সদস্য তাদের কাছ থেকে অর্থ নিয়েছেন। কিন্তু অর্থ নেওয়ার পর প্রতিশ্রুত সহায়তা মেলেনি, বরং অভিযুক্তদের সঙ্গে সমঝোতা করার জন্য পরিবারকে চাপ দেওয়া হচ্ছে।
লিখিত অভিযোগে জানানো হয়, স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে পরিবার জানতে পারে বুশরাকে একজন যুবকের সঙ্গে দেখা গেছে। একপর্যায়ে পরিবার তাদের মেয়েকে সামনাসামনি দেখতে পেলেও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীর উপস্থিতিতে তাকে ফিরিয়ে আনতে পারেননি। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বুশরাকে পুনরায় সরিয়ে নেওয়া হয় বলে পরিবারের দাবি।
বুশরার মা সেলেনা বেগম বলেন, ‘দশদিন নয়, প্রতিটি রাত আমাদের কাছে আতঙ্কের। মেয়েটা কোথায় আছে, কী অবস্থায় আছে, আদৌ নিরাপদ আছে কিনা—এই প্রশ্নের কোনো উত্তর মিলছে না।’
পরিবার এখন উচ্চপর্যায়ের প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছে। তাদের দাবি তিনটি—বুশরাকে অবিলম্বে উদ্ধার করতে হবে, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে এবং অর্থ দাবিসহ অন্যান্য অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আবেদনপত্রের অনুলিপি রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি, রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, রাজশাহীর জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, চারঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী পুলিশ সুপার (চারঘাট সার্কেল) এবং চারঘাট মডেল থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) প্রেরণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, উমাইয়া বুশরার এই নিখোঁজের ঘটনা এবং পুলিশি গড়িমসির অভিযোগ স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। পরিবার এখন তাদের সন্তানকে ফিরে পেতে প্রশাসনের সর্বোচ্চ মহলের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছে।