হাসপাতালের আবাসিক ভবনে মুরগির খামার, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ রোগীরা

Patients suffering from bad breath
অনলাইন ডেস্ক ১১ মে ২০২৬ ০৬:৩৩ অপরাহ্ন সারা বাংলা
অনলাইন ডেস্ক ১১ মে ২০২৬ ০৬:৩৩ অপরাহ্ন
হাসপাতালের আবাসিক ভবনে মুরগির খামার, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ রোগীরা
--সংগৃহীত ছবি

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের এখন নাকে রুমাল দিয়ে পথ চলতে হচ্ছে। কারণ, হাসপাতালের আবাসিক ভবনের ছাদটি পরিণত হয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক মুরগির খামারে। হাসপাতালের আয়া পলি খাতুনের গড়ে তোলা এই খামারের বিষ্ঠার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনরা।

হাসপাতালের মূল ভবনের ঠিক পাশেই আবাসিক ভবন। হাসপাতালের গাইনি বিভাগ, অপারেশন থিয়েটার ও প্রসূতি মায়েরা চিকিৎসাধীন। ঠিক তার পাশেই আছে সেই মুরগির খামার। বাতাস হলেই ছাদ থেকে আসছে মুরগির বিষ্ঠার তীব্র দুর্গন্ধ।

খামারের মালিক হাসপাতালের আয়া পলি খাতুন বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এক মাস হলো খামারটি করেছি। খামারে শতাধিক ব্রয়লার মুরগি রয়েছে। এখন ২১ দিন বয়স হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হয়েছে তাই গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে, তা ছাড়া, গন্ধ হয় না। আজকেই ছাদ থেকে মুরগিগুলো সরিয়ে ফেলবো।

পলি খাতুন আরও বলেন, খামারের বিষয়ে স্যার (উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা) জানেন। আমি তাকে খামারে মুরগি তোলার ব্যাপারে জানিয়েছিলাম।

এ বিষয়ে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামীমা আক্তার বলেন, ওই কোয়ার্টার হাসপাতালের পেছনে অবস্থিত। দীর্ঘদিন কোয়ার্টারটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। সে কারণে চুরির ঘটনা ঘটেছিল। একসময় মাদকাসক্তদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছিল ভবনটি। সেখানে টিকটক করতো। তাই আমার আগে যিনি কর্মকর্তা ছিলেন তিনি পলি খাতুনকে ওখানে থাকতে দিয়েছিলেন। যাতে ভবনের নিরাপত্তা থাকে।

তিনি আরও বলেন, ওই কোয়ার্টারের ছাদে মুরগির খামার গড়ে তোলার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। গতকালকে এই বিষয়ে জানলাম। ইতোমধ্যে মুরগির সড়িয়ে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আমি পলি খাতুনকে শোকজ করেছি। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।

কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, এ বিষয়ে আমি অবগত হয়েছি। সেখানে অল্প সংখ্যক মুরগি ছিল। ইতোমধ্যেই মুরগিগুলো সড়িয়ে ফেলা হয়েছে।

হাসপাতাল চত্বরের এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে এখন স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সাধারণ মানুষ যেখানে ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার চেষ্টা করে, সেখানে সরকারি হাসপাতালের ভেতরে এমন অব্যবস্থাপনা লজ্জাজনক। অবশ্যই এর বিচার হতে হবে।