চট্টগ্রামে রাজু হত্যা মামলায় মূল শুটারসহ ৬ জন গ্রেপ্তার

বিজয়বাংলা নিউজডেক্স : ১২ মে ২০২৬ ০৫:৫৩ অপরাহ্ন জাতীয়
বিজয়বাংলা নিউজডেক্স : ১২ মে ২০২৬ ০৫:৫৩ অপরাহ্ন
চট্টগ্রামে রাজু হত্যা মামলায় মূল শুটারসহ ৬ জন গ্রেপ্তার
__সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় মোহাম্মদ হাসান রাজু হত্যা মামলায় ৬ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের মধ্যে মূল শুটার ও পরিকল্পনাকারীরাও রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি এবং হামলার পর পালিয়ে যেতে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে।

আজ বায়েজিদ বোস্তামী থানা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) আমিরুল ইসলাম।

যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা হলেন— মূল শুটার সৈয়দুল করিম (২৭), অটোরিকশাচালক আবদুল মান্নান (৩৭), মো. ইউনুস, মো. আয়াতুল্লাহ আলী আদনান (২১), মো. আবু বকর সিদ্দিক ওরফে খোকন (৪৮) এবং আজগর আলী ওরফে বাচা মিয়া (৩৯)।

পুলিশ জানায়, রাউজানের কদলপুর এলাকার দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে পরিকল্পিত প্রতিশোধমূলক হত্যাকাণ্ডের অংশ হিসেবে রাজুকে হত্যা করা হয়। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে একই এলাকার ‘মধু নাসির’ হত্যা মামলার আসামি ছিলেন রাজু। ওই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতেই অভিযুক্তরা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে পরিকল্পনা করে হামলা চালায়।

গত ৭ মে রাত পৌনে ১০টার দিকে রউফাবাদ এলাকার বাঁশবাড়িয়া গলিতে ভাড়া বাসার সামনে রাজুকে কাছ থেকে গুলি করা হয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় রেশমি আক্তার নামে ১১ বছর বয়সী এক শিশুও গুলিবিদ্ধ হয়। তার চোখে গুলি লাগে এবং বর্তমানে সে লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ডিসি আমিরুল ইসলাম জানান, সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্যবহৃত অটোরিকশাটি শনাক্ত করা হয়। প্রথমে চালক আবদুল মান্নানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সৈয়দুল করিমকে আটক করা হয়। তার বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও রক্তমাখা টি-শার্ট উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার কয়েকজনের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক মামলা হয়েছে। আবু বকর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া সৈয়দুল করিম ও আজগর আলীর বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় হত্যা ও অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্য জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান ডিসি আমিরুল ইসলাম।