‘গাড়ির ব্রেক কাজ করছে না, তুই লাফ দে’ —পদ্মায় বাস পড়ার বর্ণনায় চালক

"The car's brakes aren't working, you jump out."
অনলাইন ডেস্ক ০৫ জুন ২০২৬ ০৬:০২ অপরাহ্ন সারা বাংলা
অনলাইন ডেস্ক ০৫ জুন ২০২৬ ০৬:০২ অপরাহ্ন
‘গাড়ির ব্রেক কাজ করছে না, তুই লাফ দে’ —পদ্মায় বাস পড়ার বর্ণনায় চালক
--সংগৃহীত ছবি

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘাটের পন্টুন থেকে ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ পরিবহনের বাসটি পদ্মায় পড়ে যায়। প্রায় আড়াই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় বাসটিকে উদ্ধার করা হয়।

শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে, এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। দুর্ঘটনার পর বাসের ড্রাইভার, হেলপার ও সুপারভাইজারকে নৌ পুলিশের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

জানা গেছে, নন এসি এসবি সুপার ডিলাক্ যাত্রীবাহী বাসটির চালক ছিলেন মো. ঝন্টু আলী (৪৭)। তিনি কুষ্টিয়া জেলার সদর উপজেলার আলামপুর গ্রামের মৃত মোসাব আলীর ছেলে। বাসের হেলপার হিসেবে ছিলেন সাকিন ও সুপারভাইজার ছিলেন আজমল।

বাস নদীতে আকস্মিকভাবে পড়ে যাওয়ার বর্ণনা দিয়ে বাসের চালক মো. ঝন্টু আলী বলেন, বাসটি কুষ্টিয়া কাউন্টার থেকে ছেড়ে আসি সকাল ৭টা ১০ মিনিটের দিকে। আমি ৩৭ জন যাত্রী নিয়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাট পৌঁছাই। আমরা ঘাটে এসে বাস থেকে সকল যাত্রীকে নামিয়েছি।

যাত্রী নামিয়ে আমি এবং আমার হেলপার যখন গাড়ি নিয়ে সংযোগ সড়ক দিয়ে পন্টুনের দিকে আগাই তখন অল্প একটু যাওয়ার পরে আমি যখন গাড়ির ব্রেকে পা দেই, তখন দেখি গাড়ির ব্রেক হচ্ছে না। তখন আমি হেলপারকে বললাম গাড়ির ব্রেক কাজ করছে না, তুই লাফ দে। তখন গাড়ির গতি আরও বেড়ে যায়। গাড়ি পন্টুনের ওপরে উঠে ব্যারিকেড ভেঙে গাড়িটি সরাসরি নদীতে পড়ে যায়। নদীতে পড়ে যাওয়ার সময় গাড়ির মধ্যে আমি একাই ছিলাম, কোনো যাত্রী ছিল না। হেলপার আগেই লাফ দিয়ে নেমে গিয়েছিল। বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার পর আমি জানালা দিয়ে বের হয়ে সাঁতরে কিনারে আসলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় উপরে উঠেছি।

এর আগে গত ২৫ মার্চ সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস ব্রেক ফেল করে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাট থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে গিয়েছিল। ওই ঘটনায় মোট ২৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল।