বকশীগঞ্জ সীমান্তে পুশইনের শিকার সেই বৃদ্ধ গোদাগাড়ীর বাসিন্দা, হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলছে

The old man who was the victim of Pushin was a resident of Godagari
মুক্তার হোসেন,গোদাগাড়ী(রাজশাহী): ১১ জুন ২০২৬ ০৪:০২ অপরাহ্ন সারা বাংলা
মুক্তার হোসেন,গোদাগাড়ী(রাজশাহী): ১১ জুন ২০২৬ ০৪:০২ অপরাহ্ন
বকশীগঞ্জ সীমান্তে পুশইনের শিকার সেই বৃদ্ধ গোদাগাড়ীর বাসিন্দা, হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলছে
ছবি - কাবিল হোসেন

                                                       

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার কামালপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের শিকার হয়ে শূন্যরেখায় আটকে থাকা সেই বৃদ্ধের পরিচয় মিলেছে। তিনি রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের চান্দলাই গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা ও বাংলাদেশি নাগরিক। তার নাম ষষ্টি চন্দ্র বর্মন।

প্রায় ২৪ ঘণ্টা নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবরুদ্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সীমান্তের ১০৮২ নম্বর আন্তর্জাতিক পিলারের সামনে থেকে তাকে উদ্ধার করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বর্তমানে তিনি জামালপুরের বকশীগঞ্জ থানা হেফাজতে রয়েছেন।

ভিডিও দেখে পরিচয় শনাক্ত:

সীমান্তে আটকে থাকার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই বৃদ্ধের একটি ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি রাজশাহীতে তার পরিবারের সদস্যদের নজরে আসলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরবর্তীতে বিজিবি তার জাতীয় পরিচয়পত্র ও পারিবারিক তথ্য যাচাই-বাছাই করে নাগরিকত্ব নিশ্চিত করে উদ্ধার।

ষষ্টি চন্দ্র বর্মনের ছোট ভাই ভবানী বর্মন এবং বড় মেয়ের জামাই গৌড় বর্মন জানান, ষষ্টি চন্দ্র কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছেন। সংসারে সঠিক মনোযোগ না থাকায় তিনি প্রায়ই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতেন এবং নিখোঁজ থাকতেন। খবর পেয়ে তারা ইতোমধ্যে রাজশাহী গোদাগাড়ী থেকে জামালপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন।


সীমান্তে টানটান উত্তেজনা:

এর আগে কামালপুর সীমান্তে ওই বৃদ্ধকে বাংলাদেশে জোরপূর্বক পুশইন করার চেষ্টা করে বিএসএফ। এতে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে সীমান্তে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা সীমান্তজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন ও সমালোচনার জন্ম দেয়।

বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মকবুল হোসেন জানান, "বিজিবি ওই বৃদ্ধকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে পাঠিয়েছে। আমরা তার জাতীয় পরিচয়পত্র হাতে পেয়েছি। তার স্বজনরা রাজশাহী গোদাগাড়ীতে থেকে ইতোমধ্যে বকশীগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। তারা থানায় এসে পৌঁছালে আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৃদ্ধকে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।"