মোবাইল অপারেটররা চায় আরও ৪ খাতে ভ্যাট-ট্যাক্স অব্যাহতি

Mobile in budget proposals
অনলাইন ডেস্ক ১২ জুন ২০২৬ ১১:১২ পূর্বাহ্ন তথ্যপ্রযুক্তি
অনলাইন ডেস্ক ১২ জুন ২০২৬ ১১:১২ পূর্বাহ্ন
মোবাইল অপারেটররা চায় আরও ৪ খাতে ভ্যাট-ট্যাক্স অব্যাহতি
মোবাইল অপারেটররা চায় আরও ৪ খাতে ভ্যাট-ট্যাক্স অব্যাহতি__সংগৃহীত ছবি

বাজেট প্রস্তাবনায় মোবাইল সিমের ওপর প্রযোজ্য ভ্যাটকে মূল্যভিত্তিক করার প্রস্তাব একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ জানিয়ে আরও চার খাতে ভ্যাট-ট্যাক্স অব্যাহতি চেয়েছে দেশের মোবাইল অপারেটররা। দেশের মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন এমটব এক বিবৃতিতে এই দাবি জানিয়েছে।


এমটব


এমটব মহাসচিব লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ জুলফিকার বলেন, আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনায় মোবাইল সিমের ওপর প্রযোজ্য ভ্যাটকে মূল্যভিত্তিক (স্ট্যান্ডার্ড) করার প্রস্তাব একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। ফলে সিমের ওপর বিদ্যমান সুনির্দিষ্ট কর প্রত্যাহার করে এখন থেকে বিক্রয়মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ করা হবে।

 

আমরা মনে করি, এই পরিবর্তন দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ প্রান্তিক জনগোষ্ঠী- যারা এখনও টেলিযোগাযোগ সেবার বাইরে-তাদের অন্তর্ভুক্তির পথে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং ডিজিটাল অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করবে।


তবে, খাতটির টেকসই উন্নয়ন ও ডিজিটাল রূপান্তরের গতি আরও জোরদার করতে আমরা সরকারের প্রতি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানাচ্ছি।


এর মধ্যে রয়েছে- ভোক্তার ওপর করের বোঝা হ্রাস, করপোরেট কর হার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা, স্পেকট্রামের ওপর ভ্যাট প্রত্যাহার এবং ওটিটি সেবার ওপর আরোপিত সম্পূরক শুল্ক বাতিল করা। 

আমরা আশা করি, সরকার বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও কার্যকর নীতিনির্ধারণের মাধ্যমে দেশের টেলিযোগাযোগ খাতকে আরও গতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলবে।


গ্রামীণফোন


গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ বলেন, জাতীয় বাজেটে সিম ট্যাক্স প্রত্যাহারের প্রস্তাবকে গ্রামীণফোন স্বাগত জানাই। এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ যা আরও বেশি মানুষকে ডিজিটাল ইকোসিস্টেমে নিয়ে এসে এবং ডিজিটাল বৈষম্য কমিয়ে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তিকে ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করতে পারে।


তিনি আরও বলেন, আমরা সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি কর হার কাঠামো প্রবর্তনের উদ্যোগকেও সাধুবাদ জানাই, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য অধিকতর পূর্বাভাস যোগ্যতা এবং নিশ্চয়তা প্রদান করে। তবে, বিদ্যমান খাত-ভিত্তিক কর হার কোনো সমন্বয় ছাড়াই বজায় রাখা—যার মধ্যে অনেকগুলোই বছরের পর বছর ধরে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বেশি রয়েছে—উল্লেখযোগ্য কর বোঝার সম্মুখীন শিল্পগুলোকে সীমিত স্বস্তি দেয়।


তিনি জানান, করপোরেট আয়কর এবং সম্পূরক শুল্ক উভয়সহ টেলিকম খাতের করের জন্য একটি পর্যায়ক্রমিক হ্রাস রোডম্যাপ প্রবর্তন করা আরও কার্যকর পদ্ধতি হতো। এই ধরনের পদক্ষেপ বিনিয়োগ পরিবেশকে শক্তিশালী করবে, আরও বেশি প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) উৎসাহিত করবে এবং বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই খাতের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতাকে সমর্থন করবে। তাই আমরা সরকারকে টেলিকম শিল্পের জন্য বিদ্যমান কর কাঠামো পর্যালোচনা করতে এবং এই খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক, বিনিয়োগ-বান্ধব এবং লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক করে তোলার লক্ষ্যে আরও সংস্কার বিবেচনা করার জন্য আহ্বান জানাই।


রবি


রবির চিফ করপোরেট ও রেগুলেটরি অফিসার ব্যারিস্টার সাহেদ আলম বলেন, জাতীয় বাজেটে সিম কর প্রত্যাহারের প্রস্তাবকে আমরা স্বাগত জানাই। এটি ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি ত্বরান্বিত করা এবং সংযোগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করার একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।


তিনি বলেন, সিম কর প্রত্যাহারের ফলে দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ এখনো সংযুক্ত নয় এমন জনগোষ্ঠী ডিজিটাল সংযোগের আওতায় আসতে পারবে। এর মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আর্থিক সেবা এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক সুযোগে তাদের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি পাবে। যদিও এর ফলে সরকারের স্বল্পমেয়াদে কিছু রাজস্ব হ্রাস হতে পারে, তবে সংযোগ বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে মোবাইল সেবার ব্যবহার, ডিজিটাল সেবার বিস্তার এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে এই প্রবৃদ্ধি থেকে সৃষ্ট অতিরিক্ত রাজস্ব ও অর্থনৈতিক সুফল প্রাথমিক রাজস্ব হ্রাসের তুলনায় অনেক বেশি হবে। এই দূরদর্শী পদক্ষেপ দেশের ডিজিটাল রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করবে, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিকে উৎসাহিত করবে এবং একটি শক্তিশালী ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


বাংলালিংক


বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতকে সহায়তা করতে সরকারের গৃহীত উদ্যোগগুলোকে আমরা স্বাগত জানাই, যার মধ্যে টেলিকম খাতকে জাতীয় অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত (থ্রাস্ট) খাত হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান এবং কিছু কর হ্রাসের সিদ্ধান্ত উল্লেখযোগ্য। এসব পদক্ষেপ ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি ত্বরান্বিত করবে, বিনিয়োগ আকৃষ্ট করবে এবং দেশের ডিজিটাল রূপান্তরকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আইসিটি ও টেলিযোগাযোগ খাতের জিডিপিতে অবদান ১০ শতাংশে উন্নীত করার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বাংলাদেশের শক্তিশালী ডিজিটাল আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন। বাংলালিংক এই যাত্রায় অংশীদার হতে এবং সংযোগ ও প্রযুক্তির মাধ্যমে সবার জন্য আরও উন্নত ও সহজ জীবন গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।