নওগাঁর বদলগাছীতে চার দশকের শিক্ষকতা শেষে রাজকীয় বিদায় পেলেন অসীম কুমার মন্ডল
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার সেনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক পেরিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছে ফুলে সজ্জিত একটি ঘোড়ার গাড়ি। পেছনে বাজছে ঢাক-ঢোল। গাড়িতে বসে আছেন সদ্য অবসরে যাওয়া বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক অসীম কুমার মন্ডল। রাস্তার দু’পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও অভিভাবকেরা। কেউ ফুল ছুড়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন, কেউবা অশ্রুসজল চোখে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাচ্ছেন। গত মঙ্গলবার বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন পরিবেশে দীর্ঘ কর্মজীবনের ইতি টানা এই শিক্ষককে এভাবেই ব্যতিক্রমী ও রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. রোস্তম আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছানাউল হাবিব। এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিদায়ী প্রধান শিক্ষক অসীম কুমার মন্ডল বলেন, এই বিদ্যালয়ে কাটানো সময় আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান অধ্যায়। সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যে ভালোবাসা পেয়েছি, তা কখনো ভোলার নয়।
অভিভাবক মোহাম্মদ মকুল হোসেন বলেন, অসীম কুমার মণ্ডল নিজের সন্তানের মতো করে এই প্রতিষ্ঠানটিকে গড়ে তুলেছেন।
বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র বুলবুল আহমেদ আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেন, স্যার শুধু আমাদের শিক্ষক নন, জীবনের পথপ্রদর্শক। আমি যেমন তাঁর ছাত্র, আমার সন্তানও তাঁর ছাত্র। বিদ্যালয়ে আর তাঁকে দেখা যাবে না—এটাই সবচেয়ে কষ্টের।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক অদিতি সীল বলেন, মনে হচ্ছে বিদ্যালয়ের একটি সোনালী অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছানাউল হাবিব বলেন, অসীম কুমার মন্ডল ছিলেন একাধারে কর্মবান্ধব, শিক্ষার্থীপ্রেমী এবং অত্যন্ত দায়িত্বশীল একজন প্রধান শিক্ষক।
অনুষ্ঠান শেষে ফুলে মোড়ানো সেই ঘোড়ার গাড়িতে করেই প্রিয় শিক্ষককে তাঁর বাড়ির উদ্দেশে রওনা করিয়ে দেওয়া হয়। গাড়িটি বিদ্যালয়ের সীমানা পেরিয়ে গেলেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন তাঁদের প্রিয় শিক্ষকের যাওয়ার পথের পানে। একজন শিক্ষক কর্মস্থল থেকে অবসর নেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ থেকে যায় প্রজন্মের পর প্রজন্মের হৃদয়ে।