নিজের ছবিযুক্ত ‘প্যাট্রিয়ট পাসপোর্ট’ উদ্বোধন করলেন ট্রাম্প
নিজের ছবি যুক্ত ‘প্যাট্রিয়ট পাসপোর্ট’ উদ্বোধন করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এই পাসপোর্ট ছেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে সেই পাসপোর্টের ছবি শেয়ার করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পাসপোর্ট, যাতে লেখা আছে, ‘স্বাগতম, কিন্তু ভালো থেকো!’”
ছবিটিতে দেখা যায়, ট্রাম্প তার ডেস্কে দু’হাদের দিয়ে গম্ভীর মুখে দাঁড়িয়ে আছেন। তার স্বাক্ষর রয়েছে, আর পটভূমিতে রয়েছে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের লেখা। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি দপ্তর ও বাসভবন হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউসের ফটোগ্রাফার ড্যানিয়েল টোরোক কোনো এক সময়ে এ ছবিটি তুলেছিলেন। পাসপোর্টে সেই ছবিটিই ব্যবহার করা হয়েছে।
বিপরীত পৃষ্ঠায় ১৭৭৬ সালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরের একটি চিত্রকর্ম রয়েছে, সাথে লেখা আছে “ইউনাইটেড স্টেটস অফ আমেরিকা ২৫০।”
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এর আগে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল যে ৪ জুলাই স্বাধীনতা দিবসের দু’দিন পর ৬ জুলাই একটি স্মারক পাসপোর্ট অবমুক্ত করা হবে এবং সেই পাসপোর্ট হবে সীমিত সংখ্যক। প্যাট্রিয়ট পাসপোর্টের যে ছবি ট্রাম্প শেয়ার করেছেন— সেটি সেই স্মারক পাসপোর্টের ছবি কি-না নিশ্চিত হতে সাংবাদিকরা হোয়াইট হাউসে যোগাযোগ করেছিলেন; কিন্তু হোয়াইট হাউসের কোনো কর্মকর্তা এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ছবিযুক্ত এই পাসপোর্টগুলো সীমিত সংখ্যায় ছাড়া হয়েছে এবং যারা আগ্রহীদের এই পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে হলে অবশ্যই সশরীরে ওয়াশিংটনে এসে আবেদন করতে হবে।
২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনেকটা খোলাখুলিভাবেই নিজের ব্যক্তিগত ছাপ রেখে চলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বেশ কয়েকটি সরকারি ভবনের বাইরে প্রেসিডেন্টের ব্যানার উড়ছে এবং ট্রেজারি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যে শীঘ্রই এক ডলারের নোটে তার স্বাক্ষর দেখা যাবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি নামে নির্মিত প্রতিষ্ঠান জন এফ কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টসের সঙ্গেও নিজের নাম যুক্ত করেছিলেন। তবে পরে আদালতের নির্দেশে সেই নাম সরিয়ে দেওা হয়।
প্যাট্রিয়ট পাসপোর্ট অবমুক্ত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হবেন প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র প্রেসিডেন্ট, যার নাম মার্কিনিদের ভ্রমণনথিতে থাকবে।
সূত্র : সিএনএ, আনাদোলু