বেড়েছে নৃশংস হত্যাকাণ্ড, বাড়ছে উদ্বেগ বিচার নিশ্চিতের তাগিদ বিশেষজ্ঞদের
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। পরিবার, স্বজন এমনকি শিশু পর্যন্ত হত্যার শিকার হচ্ছে। এসব ঘটনায় সমাজে নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিরতা বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাদের মতে, প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা গেলে এমন অপরাধের প্রবণতা কমে আসবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন এবং হত্যাকাণ্ডের সামাজিক ও মানসিক কারণ অনুসন্ধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
বাংলাদেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী ও চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এলিনা খান বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি সমাজকে ভয়াবহ অবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা গেলে নৃশংসতা কমবে। পাশাপাশি সামাজিক বন্ধন দুর্বল হয়ে যাওয়ায় মানুষের মধ্যে অসহিষ্ণুতা বাড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মো. রেজাউল করিম বলেন, কিছু মানুষ অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে এবং সুযোগ পেলেই অপরাধ সংঘটিত করে। অপরাধের পর কার্যকর তদন্ত, নজরদারি ও বিচার না হলে অপরাধীরা উৎসাহিত হয়। তাই মনিটরিং, আইন প্রয়োগ ও বিচারব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে।
গত এক সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক আলোচিত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
এরমধ্যে রাজশাহীতে আলোচিত একটি ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রেজাউল করিমকে মুগুর দিয়ে হত্যার অভিযোগে তার ছেলে রাকিব উর রহমানকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এছাড়া,লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক যুবকের হামলায় মা ও তিন মেয়ে নিহত হন। জামালপুরে আট মাস বয়সী এক শিশুকে হত্যার অভিযোগে তার মাকে আটক করা হয়েছে। রাজধানীর মিরপুরে এক নার্সিং শিক্ষার্থীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে, যেখানে তার স্বামী পলাতক রয়েছেন। মানিকগঞ্জে নিখোঁজের ছয় দিন পর এক স্কুলছাত্রীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এছাড়া চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় দুই প্রবাসীর রহস্যজনক মৃত্যু, রাজধানীর শাহবাগে এক নারী চিকিৎসকের পচাগলা মরদেহ উদ্ধার, তুরাগ নদ থেকে তিনটি মরদেহ উদ্ধার এবং বরিশাল, জয়পুরহাটসহ বিভিন্ন জেলায় পৃথক হত্যাকাণ্ড ও অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাও জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অপরাধীদের গ্রেপ্তার করাই যথেষ্ট নয়; প্রতিটি ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, দ্রুত বিচার এবং সামাজিক মূল্যবোধ ও পারিবারিক বন্ধন শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের এই উদ্বেগজনক প্রবণতা সহজে কমবে না।