শ্বশুরবাড়ি থেকে বউ আনা-নেওয়া নিয়ে তর্ক, নাতির হাতে দাদি খুন

Argument over bringing a wife from the in-laws' house
অনলাইন ডেস্ক ০১ জুলাই ২০২৬ ০৭:৩৩ অপরাহ্ন সারা বাংলা
অনলাইন ডেস্ক ০১ জুলাই ২০২৬ ০৭:৩৩ অপরাহ্ন
শ্বশুরবাড়ি থেকে বউ আনা-নেওয়া নিয়ে তর্ক, নাতির হাতে দাদি খুন
--সংগৃহীত ছবি

গাইবান্ধার সাঘাটায় শ্বশুরবাড়ি থেকে বউ আনা-নেওয়া নিয়ে তর্কের জেরে নাতি শাকিল মিয়ার (২৫) হাতে খুন হয়েছেন দাদি ফিরোজা বেগম (৫৫)। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নাতিকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে উপজেলার খামার পবনতাইর গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন দাদা আব্দুল করিম (৬৫)।

গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) পবিত্র কুমার।

অভিযুক্ত যুবক শাকিল ওই এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত তিনমাস আগে বিয়ে হয় শাকিলের। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিয়ে বর্তমানে তার বউ বাবার বাড়িতে আছে। বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে অন্যের জমিতে পাট কাটা কাজে গিয়েছিলেন দাদা-দাদি। সেখানে দুপুর পৌনে ১টার দিকে শাকিল তার বউকে বাড়িতে আনার বিষয়ে কথা বলতে যান। সেখানে দাদা-দাদির কাছে আজই তার বউকে এনে দেওয়ার দাবি করেন। এরূপ কথা-বার্তার মধ্যদিয়ে দাদির সাথে শাকিলের তর্ক বাধে। এর এক পর্যায়ে শাকিল দাদার হাতের পাট কাটা বেকি ছিনিয়ে নিয়ে দাদিকে হাতে, পিঠে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপাতে থাকেন। পরে তার আর্তচিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে রক্তাক্ত ফিরোজা বেগমকে উদ্ধার করে প্রথমে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান হাসপাতালে রেফার করা হয়। পরে সেখানে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

এদিকে অভিযুক্ত শাকিলকে আটক করে গাছের সাথে বেধে রাখেন বিক্ষুব্ধ প্রতিবেশীরা। পরে স্থানীয়দের খবরে তাকে আটক করে থানায় নেয় পুলিশ। ঘটনার সময় শাকিলকে আটকাতে গিয়ে আহত হন দাদা।

এবিষয়ে ঘটনাস্থলে থাকা সাঘাটা থানার এসআই উজ্জল সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, নাতিকে খুনের অভিযোগে অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) পবিত্র কুমার বলেন, বউকে তার বাবার বাড়ি থেকে আনার বিষয় নিয়ে তর্কের জেরে খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। অন্য কোনো বিষয় থাকলে এজাহার পেলে পুলিশি তদন্তে জানা যাবে।