শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

Salahuddin Ahmed
অনলাইন ডেস্ক ০৭ জুলাই ২০২৬ ১২:৫১ অপরাহ্ন জাতীয়
অনলাইন ডেস্ক ০৭ জুলাই ২০২৬ ১২:৫১ অপরাহ্ন
শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।--সংগৃহীত ছবি

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ভূমিকা আরও জোরদার, শান্তিরক্ষীদের সক্ষমতা বাড়ানো এবং হাইতিতে বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট মোতায়েনের প্রস্তুতি নিয়ে জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার (৬ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ডিপার্টমেন্ট অব অপারেশনাল সাপোর্টের (ডিওএস) আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অতুল খারের সঙ্গে এ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশের সামরিক ও পুলিশ সদস্যদের পরিচালনাগত সহযোগিতা, প্রতিপূরণ (রিইমবার্সমেন্ট) দ্রুত নিষ্পত্তি, পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন, নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা (ডব্লিউপিএস) এজেন্ডা এবং হাইতিতে বাংলাদেশের বিশেষায়িত পুলিশ কন্টিনজেন্ট মোতায়েনের প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশ হিসেবে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা মিশনের পরিবেশগত ক্ষতি কমাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সৌর প্যানেল স্থাপনকারী প্রথম দেশ বাংলাদেশ।

এ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে মিশন এলাকায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার আরও বাড়াতে বাংলাদেশ আগ্রহী।

তিনি নারী শান্তিরক্ষীদের জন্য নিরাপদ ও উপযোগী কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে জাতিসংঘকে আরও পরিবেশবান্ধব ও নারীবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণের আহ্বান জানান।

একইসঙ্গে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালনের জন্য শান্তিরক্ষীদের উন্নত প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, হাইতির বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশ পুলিশ তিনটি বিশেষায়িত ফর্মড পুলিশ ইউনিট (এফপিইউ) মোতায়েনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এসব ইউনিটে সোয়াত, র‍্যাপিড রেসপন্স, বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ (ইওডি), ফরেনসিক, সাইবার অপরাধ তদন্ত, নৌ-অভিযান ও মাদকবিরোধী অভিযানের মতো বিশেষ সক্ষমতা থাকবে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে আলোচনায় অংশ নিতে আগামী ১৫ থেকে ১৭ জুলাই বাংলাদেশ পুলিশের তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল জাতিসংঘ সদর দপ্তরে যাবে। পাশাপাশি প্রয়োজনে অন্যান্য পুলিশ অবদানকারী দেশের সঙ্গে যৌথভাবেও বিশেষায়িত পুলিশ দল মোতায়েন করতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে।

বৈঠকের শেষ দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের নীল পতাকার অধীনে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশের পেশাদারিত্ব ও জাতিসংঘের লজিস্টিক সহায়তার সমন্বয়ে শান্তিরক্ষা কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে।

জবাবে আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অতুল খারে শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও শৃঙ্খলার প্রশংসা করেন।

তিনি পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশের উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন এবং হাইতিতে বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট মোতায়েনসহ বাংলাদেশের প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন।