রাজধানীতে টানা বৃষ্টিতে ও জলাবদ্ধতায় চরম ভোগান্তিতে নগরবাসী
ছুটির দিনে রাজধানীতে সকাল থেকেই তীব্র বৃষ্টিপাত হতে দেখা যায়। টানা বর্ষণে নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও নিম্নাঞ্চলে পানি জমে জনভোগান্তির সৃষ্টি হয়।
বিশেষ করে জরুরি কাজে বের হওয়া মানুষ, রিকশাচালক, পথচারী এবং শ্রমজীবী মানুষ চড়ম দুর্ভোগে পড়েছেন।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে নিউমার্কেট, আজিমপুর, ধানমন্ডি, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, মতিঝিল, কাকরাইল, শান্তিনগর, মালিবাগ ও মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সড়কে বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
দিনের শুরু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থেকেই থেমে থেমে ভারী বৃষ্টি হয়। সাপ্তাহিক ছুটির কারণে সরকারি-বেসরকারি অধিকাংশ অফিস-আদালত বন্ধ থাকায় রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে দোকানপাড়টে মানুষের উপস্থিতি অনেকটাই কম ছিল।
তবে জরুরি প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের হওয়া লোকজন এবং শ্রমজীবী মানুষদের চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
এদিন সকাল থেকেই বৃষ্টির তীব্রতা বাড়তে থাকে।
সরেজমিনে নিউমার্কেট, আজিমপুর, ধানমন্ডি, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, মতিঝিল, কাকরাইল, শান্তিনগর, মালিবাগ ও মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সড়কে, পারা মহল্লার গলিতে পানি জমে থাকতে দেখা যায়।
তীব্র বৃষ্টির কারণে রাজধানীর বেশ কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। শাহবাগ, মৌচাক, নিউমার্কেট ও বিজয়নগর এলাকায় সড়কে হাঁটু পানি জমে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। বিশেষ করে মৌচাক মার্কেটের ভেতরে বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়ায় অনেক দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ফুটপাতের দোকান থেকে শুরু করে মার্কেটের বিভিন্ন দোকানে পানি প্রবেশ করায় ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বৃষ্টির কারণে ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বেচাকেনা কমে যায়, ফলে তারা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন এবং মার্কেটের বিভিন্ন দোকানে বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়ায় ক্ষতির আশঙ্কার কথা জানান ব্যবসায়ীরা।
জলাবদ্ধতার কারণে সড়কে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করে, আবার অনেক সড়কে পানির কারণে যানবাহন বিকল হয়ে যানজটের সৃষ্টি হয়ে। এতে বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়ে যায়। অনেকেই আবার ছাতা বা রেইনকোট ছাড়াই বৃষ্টিতে ভিজেই গন্তব্যে যেতে দেখা যায়।
অপরদিকে ছুটির দিন হওয়ায় সড়কে যানবাহনের চাপ তুলনামূলক কম থাকলেও টানা বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকায় চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
দেশের ১৯ জেলার ওপর দিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যার মধ্যে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একইসঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।
শুক্রবার (১০ জুলাই) দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বজ্রপাতসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়ার নিয়মিত বুলেটিনে জানানো হয়েছে, উত্তরপশ্চিম মধ্যপ্রদেশ ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান করা সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে বর্তমানে মধ্য উত্তরপ্রদেশ ও সংলগ্ন এলাকায় লঘুচাপ হিসেবে অবস্থান করছে এবং এটি আরও দুর্বল হতে পারে। তবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও আশপাশের এলাকায় বায়ুচাপের পার্থক্য বেশি থাকায় মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় রয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি বায়ু প্রবল অবস্থায় বিরাজ করছে।
এ পরিস্থিতিতে শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ স্থানে অস্থায়ী দমকা হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণেরও আশঙ্কা রয়েছে।