গ্রামীণ জনপদের সমস্যা ও সমাধান বিষয়ে গণমাধ্যম কর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মতবিনিময়

রাজশাহী প্রতিনিধি:- ১২ জুলাই ২০২৬ ০৩:৩১ অপরাহ্ন সারা বাংলা
রাজশাহী প্রতিনিধি:- ১২ জুলাই ২০২৬ ০৩:৩১ অপরাহ্ন
গ্রামীণ জনপদের সমস্যা ও সমাধান বিষয়ে গণমাধ্যম কর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মতবিনিময়
রাজশাহীতে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ জনপদের নানাবিধ সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে এক কার্যকর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রাজশাহীতে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ জনপদের নানাবিধ সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে এক কার্যকর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (১২ জুন) সকাল সাড়ে ১০ টায় রাজশাহী মহানগরীর একটি কনভেনশন সেন্টারে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। ‘খান ফাউন্ডেশন’-এর সার্বিক আয়োজনে এবং ‘সমতা নারী কল্যাণ সংস্থা’ ও ‘লফস্ (LOFS)’-এর যৌথ উদ্যোগে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় রাজশাহী জেলার চারটি উপজেলার সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় ও জাতীয়সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত  সাংবাদিক অংশ নেন।

মতবিনিময় সভায় বক্তারা সমাজের, বিশেষ করে গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষের নানামুখী সংকট ও প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেন। আলোচনা ও বক্তব্য থেকে সমাজের ৪টি প্রধান সমস্যা এবং তা সমাধানের সুপারিশ উঠে আসে:

১. শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন আসক্তি: স্কুলপড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের অনিয়ন্ত্রিত স্মার্টফোন ব্যবহার বর্তমান সমাজের অন্যতম প্রধান ব্যাধি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গণমাধ্যম কর্মীরা ছাত্র-ছাত্রীদের স্মার্টফোন ব্যবহার বন্ধ ও নিয়ন্ত্রণে কঠোর সামাজিক ও পারিবারিক সচেতনতা গড়ে তোলার তাগিদ দেন।

২. গাছের গায়ে পেরেক পুঁতে ঝুঁকিপূর্ণ সাইনবোর্ড লাগানো বন্ধের দাবি:

সড়ক ও মহাসড়কের পাশে নিয়মবহির্ভূতভাবে জীবন্ত গাছের বুকে পেরেক (প্যারাক) পুঁতে ব্যানার-সাইনবোর্ড লাগানো বন্ধের জোর দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, "উদ্ভিদেরও প্রাণ আছে।" এভাবে পেরেক মেরে গাছের ক্ষতি করা যেমন পরিবেশবিরোধী, তেমনি এসব সাইনবোর্ডের কারণে চালকদের দৃষ্টির ব্যাঘাত ঘটে সড়ক দুর্ঘটনাও বাড়ছে। তাই অবিলম্বে এসব অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ সাইনবোর্ড উচ্ছেদ এবং এ বিষয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়।

৩. গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ: গ্রামীণ এলাকার বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা গর্ভবতী নারীদের দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার ভোগান্তি কমাতে ক্লিনিকে পর্যাপ্ত বসার সুব্যবস্থা করার জোর দাবি উত্থাপিত হয়।

৪. বিনামূল্যে আইনি সহায়তা: গ্রামের সাধারণ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ যেন সহজে আইনি অধিকার পায়, সে লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে আইনি সহায়তামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করার ব্যাপারে বক্তারা একমত পোষণ করেন।

এছাড়া,সভায় মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন বাস্তব চিত্র ও সমস্যা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন ডি.এম.কে. পবা-এর মোসা: রহিমা বেগম পরিলিক, লফস্-এর নির্বাহী পরিচালক মোসা: শাহানাজ পারভীন লাকী এবং খান ফাউন্ডেশন রাজশাহীর জেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম।

বক্তারা বলেন, গ্রামীণ জনপদের সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা ও সংকট দূরীকরণে সুশীল সমাজ এবং গণমাধ্যমকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। সাংবাদিকদের লেখনীর মাধ্যমে গ্রামীণ সমস্যাগুলো নীতি-নির্ধারকদের নজরে আসবে এবং সুশীল সমাজ তা বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।