এআই অ্যাসিস্ট্যান্টের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইইউর মুখোমুখি গুগল ও অ্যাপল
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দৌড়ে গুগল ও অ্যাপলের একটি বড় সুবিধা রয়েছে। আর সেটি হলো সারা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা শত শত কোটি স্মার্টফোনের ওপর তাদের একক নিয়ন্ত্রণ।
ইউরোপীয় কমিশনের মতে, এই নিয়ন্ত্রণ এআই অ্যাসিস্ট্যান্টগুলোর জন্য ঠিক কী অর্থ বহন করে এখন তারা সেটি খতিয়ে দেখছে এবং কড়াকড়ি আরোপ করছে।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওমডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, অ্যাপল ও গুগল দীর্ঘসময় ধরে স্মার্টফোন বাজার দখল করে আছে।
বিশ্বজুড়ে তাদের অ্যান্ড্রয়েড ফোন ও আইফোনের মোট সংখ্যা প্রায় ৫০০ কোটি। এআই দিন দিন আরও বেশি জনপ্রিয় ও বিশেষায়িত হয়ে ওঠায় এই দুই টেক জায়ান্ট তাদের এআই অ্যাসিস্ট্যান্টগুলোকে শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখছে না, বরং বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করতেও সাহায্য করার সুযোগ করে দিচ্ছে।
তবে ইউরোপীয় কমিশন চায় গুগলের জেমিনাই ও অ্যাপলের সিরির মতো অন্যান্য ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্টগুলোও যেন স্মার্টফোনে সমানভাবে পরিচিত ও সহজলভ্য হয়। তারা এখন দাবি জানাচ্ছে, ২০২৭ সালের জুলাই মাসের মধ্যে গুগল যেন অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেমে অন্যান্য এআই এজেন্টদের আরও বেশি প্রবেশাধিকার দেয়।
ইইউর এই নির্দেশনা ‘ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট’-এর একটি অংশ, যা মূলত বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে নিয়ন্ত্রণের জন্য ২০২৩ সালে ওই অঞ্চলে কার্যকর করা হয়েছিল।
ইউরোপীয় কমিশন বিশ্বাস করে, এই নতুন নির্দেশনা এআই প্রতিযোগিতার মাঠকে সবার জন্য সমান করতে সাহায্য করতে পারে। ওমডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪২ কোটি ৭০ লাখ আইফোন ও অ্যান্ড্রয়েড ফোন ইইউর এই নিয়ন্ত্রণের আওতাভুক্ত।
তবে অ্যাপল ও গুগল বলছে, তাদের প্ল্যাটফর্মগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিলে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। ‘ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট’-এর কারণে তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইফোন ও আইপ্যাডে তাদের নতুন সিরি এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট চালু করবে না বলে গত জুন মাসে ঘোষণা দিয়েছিল।
বিশেষজ্ঞরাও একমত যে, অন্য পরিষেবাগুলোকে অ্যাপল ও গুগলের অপারেটিং সিস্টেমে প্রবেশ করতে দেওয়াটা নিরাপত্তা ও ব্যবহারকারীর গোপনীয়তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তবে কেউ কেউ আবার প্রশ্ন তুলেছেন, ইইউর নিয়মগুলো প্রতিহত করার ক্ষেত্রে গুগল বা অ্যাপলের প্রধান উদ্দেশ্য আসলেই গোপনীয়তা রক্ষা করা কি না।
ইলেকট্রনিক প্রাইভেসি অ্যান্ড ইনফরমেশন সেন্টারের এআই ও মানবাধিকার কর্মসূচির সিনিয়র কাউন্সেল এবং ডিরেক্টর ক্যালি শ্রোডার বলেন, আমি বলব যে এই প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর যুক্তিগুলো পুরোপুরি বিশ্বাস না করে বরং আমাদের দেখা উচিত এই সিদ্ধান্তগুলো তাদের অপছন্দমতো প্রভাব ফেলার আগ পর্যন্ত তারা আদৌ গোপনীয়তা নিয়ে কতটা ভাবত।
সূত্র: সিএনএন