রামেক হাসপাতালে উপহারের পরিক্ষা- নিরীক্ষার যন্ত্র নিয়ে বিতর্ক

Controversy over gift testing devices
আবুল কালাম আজাদ ২০ জুলাই ২০২৬ ০৭:১০ অপরাহ্ন সারা বাংলা
আবুল কালাম আজাদ ২০ জুলাই ২০২৬ ০৭:১০ অপরাহ্ন
রামেক হাসপাতালে উপহারের পরিক্ষা- নিরীক্ষার যন্ত্র নিয়ে বিতর্ক
ছবি - বিজয় বাংলা

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে প্যাথলজি বিভাগের জন্য বিনামূল্যে সরবরাহ করা কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্র ঘিরে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালের একাংশের চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিযোগ, এসব যন্ত্র বিনামূল্যে দেওয়া হলেও ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট কোম্পানির রি-এজেন্ট ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা তৈরি হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে সরকারি ব্যয় বাড়াতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি রাজশাহী নগরীর রাজপাড়া থানা বিএনপির সভাপতি ও ঠিকাদার মিজানুর রহমান মিজানের উদ্যোগে তিনটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগে আটটি যন্ত্র সরবরাহ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সেল কাউন্টার, হরমোন অ্যানালাইজার, ইউরিন অ্যানালাইজার, ইএসআর মেশিন, ইলেক্ট্রোলাইট অ্যানালাইজারসহ বিভিন্ন পরীক্ষার যন্ত্র।

হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসকের দাবি, এসব যন্ত্রের অধিকাংশই আগে থেকেই হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগে রয়েছে। বর্তমানে ব্যবহৃত জাপান, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র ও সুইজারল্যান্ডের নামকরা প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রগুলোর পরীক্ষার মান আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। নতুন আনা যন্ত্রগুলোর বেশিরভাগই চীনে তৈরি এবং এগুলোর মাধ্যমে পরীক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে বলে তারা মন্তব্য করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে ব্যবহৃত যন্ত্রে বিভিন্ন কোম্পানির রি-এজেন্ট ব্যবহার করা সম্ভব হলেও নতুন যন্ত্রগুলোতে নির্দিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের রি-এজেন্ট ছাড়া পরীক্ষা চালানো যাবে না। তার দাবি, মূলত ভবিষ্যতে রি-এজেন্ট বিক্রির বাজার নিশ্চিত করতেই এসব যন্ত্র বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি হাসপাতালে ভেন্টিলেটরের অভাবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে প্যাথলজি যন্ত্রের পরিবর্তে জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করলে তা আরও বেশি উপকারে আসত।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিজানুর রহমান মিজান। তিনি বলেন, মানুষের সেবার উদ্দেশ্যেই যন্ত্রগুলো হাসপাতালকে দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, নতুন যন্ত্র ব্যবহারে পরীক্ষার খরচ কমবে এবং দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিনামূল্যে রি-এজেন্ট সরবরাহ করছে।

রি-এজেন্ট বিক্রির সুবিধা করে দিতেই যন্ত্র উপহার দেওয়া হয়েছে-এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “এতে আমার কোনো ব্যক্তিগত লাভ নেই। রি-এজেন্ট সরবরাহ করলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি লাভবান হবে, আমি নই।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রামেক হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের প্রধান ডা. সাবেরা সুলতানা বলেন, হাসপাতাল পরিচালকের অনুমতি ছাড়া তিনি কোনো মন্তব্য করতে পারবেন না। অন্যদিকে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি. কে. এম. মাসুদ-উল-ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং যন্ত্র সরবরাহের প্রক্রিয়া নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।