রোহিঙ্গা শিশু অপহরণে মুক্তিপণ দাবিকারী মূলহোতা গ্রেফতার
রোহিঙ্গা শিশু অপহরণের ঘটনায় মুক্তিপণ দাবিকারী সংঘবদ্ধ অপহরণচক্রের মূলহোতাকে একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার করেছে কক্সবাজার জেলা পুলিশ।
বুধবার ২৯ জুলাই বিকেলে জেলা পুলিশের উখিয়ায় অপহৃত রোহিঙ্গা শিশু উদ্ধার সংক্রান্ত প্রেস ব্রিফিং এ এসব তথ্য জানানো হয়।
জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট অফিসারদের উপস্থিতিতে সাংবাদিকদের বলা হয়, উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১১ এলাকার ৫ বছর বয়সী রোহিঙ্গা শিশু রহমত আলী, পিতা-মোঃ জুনায়েদকে গত ২২ জুলাই একটি সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্র অপহরণ করে। পরবর্তীতে অপহরণকারীরা শিশুটিকে জিম্মি করে হত্যার ভয়ভীতি প্রদর্শনপূর্বক একটি ভিডিও ধারণ করে, যা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করে। একইসঙ্গে তারা ভিকটিমের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে মুক্তিপণ দাবি করে। ভিকটিমের পরিবার শিশুটির জীবন নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত না করে নিজ উদ্যোগে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায়।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জেলা পুলিশের নজরে আসে। পরবর্তীতে একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা হতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জেলা পুলিশের একাধিক আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের এক পর্যায়ে পুলিশ অপহরণকারীদের অবস্থানের নিকটবর্তী হলে তারা বিষয়টি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য ও সম্ভাব্যতা বিশ্লেষণের ভিত্তিতে বুধবার ২৯ জুলাই রাত আড়াইটায় অপহরণকারী চক্রের মূলহোতা উখিয়ার সাইফুল ইসলাম এর পুত্র মোঃ জাকারিয়াকে (৩৭) গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আসামি ভিকটিম শিশু রহমত আলীকে অপহরণের বিষয় স্বীকার করে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি তার সংঘবদ্ধ চক্রের অন্যান্য সদস্যদের সহায়তায় দীর্ঘদিন ধরে উখিয়ার কুতুপালং এলাকায় শিশু ও অন্যান্য ব্যক্তিকে অপহরণপূর্বক জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন।
সংঘবদ্ধ অপহরণচক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে জেলা পুলিশ এবং বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে উদ্ধার শিশুটি তার পরিবারের হেফাজতে রয়েছে এবং গ্রেফতার আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।