চক্রান্ত না করে দেশ গড়ার কাজ করুন: তথ্যমন্ত্রী

Zahir Uddin Swapan
অনলাইন ডেস্ক ০১ আগস্ট ২০২৬ ০৫:২০ অপরাহ্ন জাতীয়
অনলাইন ডেস্ক ০১ আগস্ট ২০২৬ ০৫:২০ অপরাহ্ন
চক্রান্ত না করে দেশ গড়ার কাজ করুন: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।--সংগৃহীত ছবি

ফ্যাসিবাদের পতন এবং জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকার গঠনের পর রাজপথে নতুন করে অস্থিতিশীলতা ও চক্রান্তের চেষ্টা না করে সবাইকে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।


আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আয়োজিত ‘ফ্যাসিবাদের ১৫ বছর ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।


বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজেএ) ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।


তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত ১৫ বছর ধরে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বেগম খালেদা জিয়া ও আমাদের নেতা দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক আন্দোলন পরিচালিত হয়েছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে তরুণ প্রজন্মের সাহসের সঙ্গে আমাদের অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘ সংগ্রামের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ যুক্ত হয়ে বিজয় নিশ্চিত হয়েছে।’


তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেশের মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। গণঅভ্যুত্থান ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের পর এখন আর কারো রাজনৈতিক বিভ্রান্তিতে থাকার সুযোগ নেই, এখন সবার মূল কাজ দেশ গড়া।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টার বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘একটি পক্ষ দেশ পুনর্গঠনের কাজে মনোযোগ না দিয়ে পার্লামেন্টের বাইরে রাজপথে নাটক তৈরি এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় যুদ্ধের পরিবেশ সৃষ্টির চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। মনে রাখতে হবে, সরকার এই চক্রান্তের গভীরতা বোঝে। জনগণ দায়িত্ব দিয়েছে বলেই সরকার অত্যন্ত ধৈর্য ও অভিভাবকের মতো আচরণ করছে। তবে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও জনগণের কল্যাণে প্রয়োজন হলে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিতেও দ্বিধা করবে না।’


তথ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, আন্দোলন কারো কারো পেশা হতে পারে, কিন্তু বিএনপির মূল লক্ষ্য ছিল ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা। সে লক্ষ্য অর্জিত হওয়ায় এখন আমাদের একমাত্র অঙ্গীকার দেশের উন্নয়ন ও সংস্কার নিশ্চিত করা।


অনুষ্ঠানে মুখ্য উদ্বোধকের বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান বলেন, ফ্যাসিবাদের দুঃশাসন ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট আগামী প্রজন্মের সামনে সঠিকভাবে তুলে ধরার জন্য এই আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস ও ত্যাগের কথা জানতে পারবে।


বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ‘মাজারে হামলা করা, বাউলদের মারধর করা বা মানুষের ওপর অন্যায় অত্যাচার করা আমাদের সংস্কৃতি বা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নয়। এসব অপসংস্কৃতি বন্ধে সরকারকে আরও কঠোর ভূমিকা রাখতে হবে।’ পাশাপাশি চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনেরই চূড়ান্ত পরিণতি উল্লেখ করে তিনি চব্বিশের আন্দোলনে নিহত সকল শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য দ্রুত রাষ্ট্রীয় ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান।


তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, বিগত স্বৈরাচার আমলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন লড়াইয়ের ধারাবাহিকতাতেই জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে। চব্বিশের আন্দোলনের বিজয়ী শক্তিগুলোর মধ্যে কোনো ধরনের কৃত্রিম বিভেদ ও ষড়যন্ত্র তৈরি না করে পতিত ফ্যাসিবাদের চক্রান্ত রুখে দিতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব ও আমরা বিএনপি পরিবার- এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন বলেন, চব্বিশের আন্দোলনে বিএনপি কখনোই একক কৃতিত্ব দাবি করেনি। এটি ছিল দল-মত নির্বিশেষে পুরো জাতির আন্দোলন। আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সাধারণ মানুষ, মা-বোনদের অবদান খাটো করার সুযোগ নেই। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানকে পুঁজি করে দেশে কোনো ধরনের নৈরাজ্য তৈরি না করে সবাই মিলে দেশ গড়ার কাজে হাত দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে জাতির ক্রান্তিকাল সময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করায় ফটো সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান।


অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব-১ জাহিদুল ইসলাম রনি, বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম মহসীন, সাধারণ সম্পাদক বাবুল তালুকদার প্রমুখ।