দুবাইয়ে জামিনে কারামুক্ত বেনজীর আহমেদ

Benazir Ahmed released from prison
অনলাইন ডেস্ক : ০২ আগস্ট ২০২৬ ০৩:০৫ অপরাহ্ন জাতীয়
অনলাইন ডেস্ক : ০২ আগস্ট ২০২৬ ০৩:০৫ অপরাহ্ন
দুবাইয়ে জামিনে কারামুক্ত বেনজীর আহমেদ
দুবাইয়ে জামিনে কারামুক্ত বেনজীর আহমেদ। প্রতীকী ছবি

দুবাইয়ে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ইউরোপের একটি দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে কালবেলাকে জানিয়েছে তার পারিবারিক সূত্র।


গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আইনি প্রক্রিয়া শেষে কারামুক্ত হন বেনজীর আহমেদ। এর আগে ২৭ জুলাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।


বেনজীর আহমেদের পারিবারিক সূত্র রোববার (২ আগস্ট) কালবেলাকে জানায়, দুবাই থেকে ইউরোপের একটি দেশে যাচ্ছেন তিনি।


যদিও আদালতের শর্ত অনুযায়ী, তার দুবাই ত্যাগের অনুমতি নেই এবং পাসপোর্টও কর্তৃপক্ষের কাছে জমা রয়েছে।


এদিকে তার মুক্তির বিষয়ে ঢাকায় পুলিশ সদর দপ্তরে ইন্টারপোল শাখা ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো বা এনসিবি জানে না বলে সেখানকার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। দুপুর পর্যন্ত এ নিয়ে পুলিশের কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলতেও রাজি হননি।


সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রত্যর্পণসংক্রান্ত নথিপত্র এবং আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে দুবাইয়ের আদালতে উভয়পক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পরে শর্তসাপেক্ষে বেনজীরকে জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন আদালত।


দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলায় দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ। দুবাই পুলিশের সহায়তায় এবং আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ১২ জুন এক চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে অবহিত করে দুবাই পুলিশ।


বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচারসহ একাধিক অভিযোগে তদন্ত চালাচ্ছে দুদক। সেই তদন্তের ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।


২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশের মহাপরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করেন বেনজীর আহমেদ। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার এবং র‍্যাবের মহাপরিচালক ছিলেন। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র র‍্যাবের সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে সেই তালিকায় তার নামও ছিল।


২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের কয়েক মাস আগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে এলে তদন্ত শুরু করে দুদক। অভিযোগ ওঠার পর তিনি দেশত্যাগ করেন। পরে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয় এবং আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়।