জুলাই অভ্যুত্থানে একজন গুলিতে পড়েছে আরেকজন বন্ধুকের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছে: রিজভী

Ruhul Kabir Rizvi
রাজশাহী প্রতিনিধি:- ০৩ আগস্ট ২০২৬ ১০:২৪ পূর্বাহ্ন সারা বাংলা
রাজশাহী প্রতিনিধি:- ০৩ আগস্ট ২০২৬ ১০:২৪ পূর্বাহ্ন
জুলাই অভ্যুত্থানে একজন গুলিতে পড়েছে আরেকজন বন্ধুকের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছে: রিজভী
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর।--সংগৃহীত ছবি

জুলাই গণঅভ্যুত্থান ফরাসি বিপ্লবের চেয়ে কোনো অংশে কম নয় । এই অভ্যুত্থানে এক বন্ধু গুলিতে পড়ে গেলে আরেক বন্ধু পুলিশের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছে,এমন অভিমত বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর।

তিনি বলেছেন, “জুলাই একটি তাৎপর্যবর্ণিত গণঅভ্যুত্থান বা বিপ্লব। এটি নিঃসন্দেহে কোনো অংশেই ফরাসি বিপ্লবের চাইতে কম নয়। ফরাসি বিপ্লবও ছিল মানুষের অধিকার, নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার। প্রতিটি বিপ্লব- গণঅভ্যুত্থানেই রক্ত ঝরে। কিন্তু এই জুলাই বিপ্লবে এক মাসে যত রক্ত ঝরেছে তা ফরাসি বিপ্লবের সময় বা পৃথিবীর অন্যান্য বিপ্লবে এত কম সময়ে ঝরেছে কিনা সন্দেহ আছে।”

রোববার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে শাখা ছাত্রদলের আয়োজনে ‘রক্তাক্ত জুলাই: স্মরণ ও প্রত্যয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার অবদানকে স্মরণ করে রাকসুর সাবেক ভিপি রিজভী বলেন, “এই অভ্যুত্থানে এক বন্ধু গুলিতে পড়ে গেলে আরেক বন্ধু পুলিশের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছে। শেখ হাসিনা এতটাই ঘৃণ্য ফ্যাসিস্ট যে, তার নিজের দেশের স্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটির সন্তানদেরকে হত্যা করতে দ্বিধা করেনি। ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য সে এগুলো করেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা পারেনি।

“শেখ হাসিনা তো মুক্তিযুদ্ধে যাননি, ওনার স্বামীকেও মুক্তিযুদ্ধে পাঠাননি। যদি সামনে থেকে দেখতেন, তাহলে জানতেন বাংলার দামাল ছেলেরা কিভাবে লুঙ্গি পড়ে হাতের রাইফেল নিয়ে হানাদার বাহিনীকে প্রতিহত করেছিল। তাদেরই উত্তরসূরীরাই জুলাই বিপ্লবের নায়ক, জুলাই বিপ্লবের সৈনিক।”

বিএনপি দলীয়করণ করছে না জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, “জামায়াত ক্ষমতায় আসলে শুধু ডিএনএ টেস্ট না, একেবারে সালফিউরিক এসিডের মধ্যে চুবিয়ে দেখবেন সেটা জামায়াত কিনা। ক্ষমতায় আসলে তারা এতটাই দলীয়করণ করবে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সব দলীয়করণকে ছাড়িয়ে যাবে।”

এনসিপির সমালোচনা করে এই নেতা বলেন, “গুপ্তরা সবসময় পশ্চাৎপদ রাজনীতি করে, আপনারা ইয়াং ছেলেরা থাকবেন সবচাইতে প্রগতিশীল। কিন্তু আপনারা পশ্চাৎমুখী একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট করলেন। এটা রাজনৈতিক দর্শনের দিক থেকেও আপনারা জিনিসটা সঠিক করেননি।

“আপনারা শেখ হাসিনার মত কুরুচিপূর্ণ কথা, নোংরা কথা, ঘৃণা ছড়িয়ে বিরোধিতা করছেন। এটা তো জনগণ ঠিকমত নেবে না। আপনাদের যে ভাষা দেখছি, এ ভাষাটা গণতন্ত্রের সহায়ক নয়। এই ভাষা সভ্যতার সহায়ক নয়। এটা সেই শেখ হাসিনার অপকীর্তি এবং অপসংস্কৃতিরই দ্যোতক হিসেবেই আমার কাছে মনে হয়।”

সভায় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের পরে আমরা মনে করেছি যে, বাংলাদেশের প্রতিটি ক্যাম্পাসে ইতিবাচক রাজনীতি চলমান থাকবে। কিন্তু আমরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সেটি গত দেড় বছরে একটি বারের জন্যও দেখিনি। গণঅভ্যুত্থানের পরে একটা অশুভ রাজনীতি এখানে তৈরি হয়েছে।

“শিক্ষার্থীরা একরকম মানসিক ভারসাম্যহীন একজনকে প্রতিনিধি করেছে, যিনি নিজের দায়িত্ব পালন না করে বেলচা হাতে শিক্ষার্থী পেটাতেই বেশি তৎপর। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন রাজনীতি আমরা আসলে দেখতে চাই না। আমরা মনে করি, শিক্ষার্থীরা যে আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে উনাকে নির্বাচিত করেছেন সেই আশা-আকাঙ্ক্ষা উনার বাস্তবায়ন করা উচিত।”

সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, “জুলাই-অগাস্টের গণঅভ্যুত্থান ছিল বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের আন্দোলন। সেই আন্দোলনে অসংখ্য মানুষ জীবন দিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন। তবে আজও প্রশ্ন রয়ে গেছে সেই আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন আদৌ হয়েছে কি না। যারা জুলাই-অগাস্টে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন, তাদের অনেকেই আজ কর্মসংস্থানহীন অবস্থায় রয়েছেন।”