রামেবি ভিসির পদত্যাগের দাবিতে মানববন্ধন, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা

Human chain demanding resignation of Rameb VC
রাজশাহী প্রতিনিধি: ০৩ আগস্ট ২০২৬ ০৬:৫৩ অপরাহ্ন সারা বাংলা
রাজশাহী প্রতিনিধি: ০৩ আগস্ট ২০২৬ ০৬:৫৩ অপরাহ্ন
রামেবি ভিসির পদত্যাগের দাবিতে মানববন্ধন, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা
রামেবি ভিসির পদত্যাগের দাবিতে মানববন্ধন, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা

আগস্ট রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হকের পদত্যাগের দাবিতে ছাত্র-জনতার একটি অংশ রাজশাহীতে সোমবার(৩আগস্ট) মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে। কর্মসূচি থেকে উপাচার্যের বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও নিয়োগ-সংক্রান্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।


তবে কর্মসূচির চেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে মানববন্ধন চলাকালে ধারণ করা একটি ভিডিও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, উপাচার্যের ছবিতে জুতার মালা পরিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি জুতা দিয়ে আঘাত করছেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।


অনেক ব্যবহারকারী এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে অশোভন ও অসভ্য আচরণ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁদের ভাষ্য, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তার তদন্ত ও বিচার আইনের মাধ্যমেই হওয়া উচিত; ব্যক্তিগতভাবে অপমান বা হেয়প্রতিপন্ন করার সংস্কৃতি গণতান্ত্রিক সমাজের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।


ফেসবুক ব্যবহারকারী ইব্রাহিম মোল্লা লিখেছেন, "একজন মানুষ ভুল বা অপরাধ করতে পারেন। তার জন্য আইন রয়েছে। মানববন্ধন পর্যন্ত ঠিক ছিল, কিন্তু কারও ছবিতে জুতার মালা পরিয়ে জুতা মারা কোনো সভ্যতার পরিচয় হতে পারে না।"


আরেক ব্যবহারকারী ইমদাদুল হক লিখেছেন, "রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে জুতা মারা হচ্ছে—এরা আসলে কারা?" তাঁর পোস্টের মন্তব্যেও ঘটনাটির সমালোচনা করে বিভিন্ন মতামত প্রকাশ করা হয়েছে।


এ ছাড়া আরও অনেক ব্যবহারকারী ঘটনাটিকে লজ্জাজনক, অনাকাঙ্ক্ষিত ও নিন্দনীয় বলে অভিহিত করেছেন। তাঁদের মতে, মতপ্রকাশের অধিকার থাকলেও তা শালীনতা ও আইনের সীমার মধ্যেই হওয়া উচিত।


অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ মানববন্ধনের প্রতিনিধিত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের মতে, কর্মসূচিটি "ছাত্র-জনতার" ব্যানারে অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি কতটা ছিল, তা নিয়েও আলোচনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে আয়োজকদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


উল্লেখ্য, উপাচার্যের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো এখনো আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়নি। একইভাবে মানববন্ধনে প্রদর্শিত আচরণ নিয়েও বিভিন্ন মহলে ভিন্নমত রয়েছে।