সৌদিতে কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬

Factory fire
অনলাইন ডেস্ক ১০ আগস্ট ২০২৬ ১১:০৪ পূর্বাহ্ন জাতীয়
অনলাইন ডেস্ক ১০ আগস্ট ২০২৬ ১১:০৪ পূর্বাহ্ন
সৌদিতে কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬
--সংগৃহীত ছবি

​সৌদি আরবের রিয়াদের শিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় সোফা তৈরির একটি কারখানায় আগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে নওগাঁ জেলার আত্রাইয়ের ১৩ জন ও নাটোরের নলডাঙ্গার দুজন এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার একজন রয়েছেন।


প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) মোহাম্মদ রেজায়ে রাব্বী জানিয়েছেন, মৃত ব্যক্তিদের সবাই বাংলাদেশি।


প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


মোহাম্মদ রেজায়ে রাব্বী জানান, রোববার (৯ আগস্ট) সৌদি আরবের স্থানীয় সময় দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে রিয়াদের শিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় একটি সোফার তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছেন বলে সেখানে কর্মরত ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কর্মীরা নিশ্চিত হয়ছেন।


তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহতদের সবাই বাংলাদেশি। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এখনও উদ্ধার কাজ পরিচালনা করছেন।


অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়ায় লাশগুলো শনাক্ত করা দুরূহ হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাস, রিয়াদ এ ঘটনায় গভীর শোক জানিয়েছে। দূতাবাসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে নিহত সবার নাম-পরিচয় শনাক্তকরণে স্থানীয় সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।


নিহত ১৬ জনের মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামের চারজন, বিষা গ্রামের দুজন ও পারকাসুন্দা গ্রামের একজন এবং নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার দুজন এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের একজন। 


নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল ইমরান খান ও নলডাঙ্গার খাজুরা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসেন এবং আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।


নলডাঙ্গা ইউএনও আল ইমরান খান ও খাজুরা ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন জানান, সাব্বির ও শামীম সৌদি আরবে গিয়ে সোফা তৈরির একটি কারখানায় কর্মরত ছিলেন। রোববার কারখানায় আগুন লেগে তাদের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে মৃত্যুর বিষয়টি তারা নিশ্চিত হয়েছেন। বিষয়টি জেলা প্রশাসনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে নিহতদের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানানো হবে। পাশাপাশি নিহতদের লাশ দেশে আসার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে ওই তিন পরিবারে চলছে শোকের মাতম।


আত্রাই ইউএনও মনিরুজ্জামান জানান, রোববার কারখানায় আগুন লেগে আত্রাইয়ের ১৩ জনের মৃত্যুর খবর জানা গেছে। তারা উপজেলাটির বিভিন্ন গ্রাম থেকে সৌদি আরবে গিয়ে সোফা তৈরির কারখানায় কাজ করছিলেন।


এর আগে রোববার রাতে এক বিবৃতিতে সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশিদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

 

এক শোক বার্তায় মন্ত্রী বলেন, ‘জীবিকার তাগিদে সুদূর সৌদি আরবে কর্মরত আমাদের এই প্রবাসী ভাইদের এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদান অপরিসীম। তাদের এই আকস্মিক প্রয়াণে আমি গভীর শোকাহত এবং নিহতের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি।’


তিনি আরও জানান, সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে দুর্ঘটনাস্থল ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। নিহত প্রবাসী ভাইদের লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী মরহুমদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গকে এই অসীম কষ্ট সহ্য করার শক্তি দানের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা জানান।