অসুখী সম্পর্কেও কেন আটকে থাকেন মানুষ

Why do people stay in unhappy relationships
অনলাইন ডেস্ক ১৪ আগস্ট ২০২৬ ০৪:৪০ অপরাহ্ন লাইফস্টাইল
অনলাইন ডেস্ক ১৪ আগস্ট ২০২৬ ০৪:৪০ অপরাহ্ন
অসুখী সম্পর্কেও কেন আটকে থাকেন মানুষ
--সংগৃহীত ছবি

সম্পর্কে সুখ নেই। নেই আগের মতো ভালোবাসা, নেই মন খুলে কথা বলার সুযোগ।


দিনের পর দিন কথোপকথন সীমাবদ্ধ হয়ে যায় ‘খেয়েছ?’, ‘ঘুমিয়েছ?’, ‘দিন কেমন গেল?’ এর মতো গতানুগতিক প্রশ্নে। একসঙ্গে থেকেও তৈরি হয় দূরত্ব, একাকিত্ব আর মানসিক অস্বস্তি।


তবু সম্পর্কটা ভেঙে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না অনেকে।


বাইরে থেকে বিষয়টি যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে ততটা নয়।


কারণ একটি সম্পর্ক শুধু ভালোবাসার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অভ্যাস, স্মৃতি, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা, নিরাপত্তা এবং নানা ধরনের আবেগ।


মনোবিশেষজ্ঞদের মতে, সুখী বা অসুখী সম্পর্কের সংজ্ঞা সবার কাছে এক নয়।


কারও কাছে ভালোবাসার অভাবই সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার যথেষ্ট কারণ, আবার কেউ বন্ধুত্ব, সম্মান, মায়া কিংবা পারস্পরিক বোঝাপড়াকেও সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখেন।


 

যে কারণে অসুখী সম্পর্ক থেকেও বেরিয়ে আসা কঠিন


একা হয়ে যাওয়ার ভয়:

সম্পর্ক শেষ হলে কী হবে, এই অনিশ্চয়তা অনেককেই পিছিয়ে দেয়। নতুন করে জীবন শুরু করা বা ভবিষ্যতে আর কাউকে পাওয়া যাবে কি না, এমন আশঙ্কা মানুষকে পরিচিত অস্বস্তির মধ্যেই থাকতে বাধ্য করে।


অভ্যাসের টান:

দীর্ঘদিনের সম্পর্ক একসময় জীবনের স্বাভাবিক অংশ হয়ে যায়। ফলে সঙ্গীকে হারানোর পাশাপাশি বদলে যায় দৈনন্দিন জীবনযাপনও। এই পরিবর্তনের ভয় সিদ্ধান্তকে আরও কঠিন করে তোলে।


অতীতের বিনিয়োগ:

একটি সম্পর্কে বছরের পর বছর সময়, আবেগ, শ্রম ও ত্যাগ দেওয়ার পর সেটি শেষ করে দিলে সবকিছু যেন বৃথা হয়ে যাবে—এমন অনুভূতি তৈরি হতে পারে। ফলে মানুষ অনেক সময় বর্তমানের কষ্টের চেয়েও অতীতের স্মৃতিকে বেশি গুরুত্ব দেন।


সবকিছু ঠিক হয়ে যাওয়ার আশা:

অনেকেই ভাবেন, হয়তো একদিন সঙ্গী বদলে যাবেন, সম্পর্কের পুরনো উষ্ণতা ফিরে আসবে কিংবা ভুল বোঝাবুঝির অবসান হবে। সেই আশাই কখনও কখনও মানুষকে দীর্ঘদিন একটি অসুখী সম্পর্কে আটকে রাখে।


সম্পর্ক ভাঙাই কি একমাত্র সমাধান?


সব অশান্ত সম্পর্কের পরিণতি বিচ্ছেদ হতে হবে, এমন নয়। দু’জনের মধ্যে যোগাযোগের সমস্যা থাকলে খোলামেলা আলোচনা, একে অপরের কথা মন দিয়ে শোনা এবং প্রয়োজন হলে দাম্পত্য বা সম্পর্ক-বিষয়ক কাউন্সেলিং পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে পারে।

 

তবে সম্পর্কের মধ্যে যদি নিয়মিত মানসিক নির্যাতন, শারীরিক সহিংসতা, যৌন নির্যাতন, অপমান বা নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ থাকে, তখন বিষয়টি ভিন্ন। এমন পরিস্থিতিতে শুধু সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা না করে নিজের নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।


কারণ সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার নাম সুখী থাকা নয়। আবার সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার নামও সবসময় ব্যর্থতা নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো—সেই সম্পর্কে মানুষটি নিরাপদ, সম্মানিত ও মানসিকভাবে ভালো আছেন কি না।