একাধিক অভিযোগে রাবির সহযোগী অধ্যাপককে পদাবনতি, ৫ বছরের অব্যাহতি

Dr. Sujan Sen
রাজশাহী প্রতিনিধি:- ১৭ আগস্ট ২০২৬ ১২:৩৯ অপরাহ্ন সারা বাংলা
রাজশাহী প্রতিনিধি:- ১৭ আগস্ট ২০২৬ ১২:৩৯ অপরাহ্ন
একাধিক অভিযোগে রাবির সহযোগী অধ্যাপককে পদাবনতি, ৫ বছরের অব্যাহতি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুজন সেনের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

পছন্দের শিক্ষার্থীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়াসহ অযোগ্যতা, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার একাধিক অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুজন সেনের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাঁকে পাঁচ বছরের জন্য সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পাশাপাশি সহযোগী অধ্যাপক পদ থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদাবনতি করা হয়েছে।


রোববার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪৮তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


রেজিস্ট্রার বলেন, অযোগ্যতা, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ড. সুজন সেনকে পাঁচ বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে সহযোগী অধ্যাপক পদ থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে অবনতি করা হয়েছে।


বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, পাঁচ বছর পর তিনি সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কাজে যোগ দেওয়ার যোগ্য হবেন। এরপর আরও চার বছর পর সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য আবেদন করতে পারবেন। অর্থাৎ পদোন্নতির ক্ষেত্রে কার্যত তাঁকে নয় বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শাস্তির মেয়াদে তিনি কোনো ইনক্রিমেন্টও পাবেন না।


এর আগে অযোগ্যতা, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে গত বছরের ২৫ আগস্ট ড. সুজন সেনকে বিভাগে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা। পরে ৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ছাত্র উপদেষ্টা ও বিভাগীয় সভাপতির কাছে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য-প্রমাণসহ প্রায় ২০০ পৃষ্ঠার লিখিত অভিযোগ দেন তাঁরা।


অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় ড. সুজন সেনকে বিভাগের সব কার্যক্রম থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অভিযোগ তদন্তে ১৮ সেপ্টেম্বর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।


বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের দাবি, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ড. সুজন সেনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মধ্যে তাঁর আচরণকে নৈতিক স্খলন হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট-১৯৭৩-এর ৫৫(৩) ধারা অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীনকে আহ্বায়ক করে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্য ছিলেন সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম-২ এবং ড. সুজন সেন মনোনীত একজন প্রতিনিধি।


গত ৯ মার্চ অনুষ্ঠিত রাবির ৫৩৭তম সিন্ডিকেট সভায় এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ১৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত ৫৪৮তম সিন্ডিকেট সভায় ড. সুজন সেনের বিরুদ্ধে পাঁচ বছরের অব্যাহতি ও পদাবনতির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।