ঢাকা কলেজের হলগুলোতে ৯০ শতাংশ সিট রাজনৈতিক সুপারিশে বরাদ্দের অভিযোগ

Allegations that 90 percent of seats were allocated based on political recommendations
অনলাইন ডেস্ক ২৫ আগস্ট ২০২৬ ০৭:০০ অপরাহ্ন জাতীয়
অনলাইন ডেস্ক ২৫ আগস্ট ২০২৬ ০৭:০০ অপরাহ্ন
ঢাকা কলেজের হলগুলোতে ৯০ শতাংশ সিট রাজনৈতিক সুপারিশে বরাদ্দের অভিযোগ
সংগৃহীত ছবি

রাজনৈতিক সুপারিশে হলগুলোতে ৯০ শতাংশ সিট দেওয়ার অভিযোগ তুলে এসব সিট বাতিল করে নতুন করে সিট বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন ঢাকা কলেজের একদল শিক্ষার্থী।

এ ছাড়াও বিভাগ থেকে মেধাবী ও অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের হলে সিট বরাদ্দের সুপারিশের বিপরীতে কলেজ প্রশাসন স্বচ্ছল ও নন কলেজিয়েট এবং ফেল করা শিক্ষার্থীদের সিট বরাদ্দের অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আবাসন সংকট সামাধানে নতুন হল নির্মাণের দাবি জানান তারা।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা কলেজের শহীদ মিনারের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান তারা। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ঢাকা কলেজের অনার্স ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সালমান শরীফ, শাহীন আলম ও তৃতীয় বর্ষের মারুফ মিয়া।  

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে সালমান শরীফ বলেন, “বিভাগের মাধ্যমে হলে আবেদনের পর ঢাকা কলেজ প্রশাসন কর্তৃক সিট বরাদ্দের লিস্ট দেওয়া হয়েছে। ডিপার্টমেন্ট থেকে যেসব শিক্ষার্থীকে সুপারিশ করা হয়েছে তাদের সিট দেওয়া হয়নি। বিভিন্ন মন্ত্রীর সুপারিশ কিংবা বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রায় ৯০ শতাংশ সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পরিচয়ে বাকি ১০ শতাংশ সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।”

তিনি বলেন, ‘ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষার্থী কলেজের পরীক্ষায় ডিপার্টমেন্টে ফার্স্ট হয়েছে। কিন্তু তাকে সিট না দিয়ে ডিপার্টমেন্টের লাস্ট কিংবা ফেল করেছে তাকে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আমরা আরও লক্ষ্য করেছি, গত দুই মাস ধরে ঢাকা কলেজের রিডিং রুমে বসবাস করা ফুডপান্ডায় কাজ করা একজন শিক্ষার্থীকেও মানবিক বিবেচনায় হলের সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। কলেজ প্রশাসন বিভিন্ন নন-কলেজিয়েট, ডিসকলেজিয়েট হয়েছে তাদেরকে হলে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যারা মেধাবী, যারা যোগ্য হলের সিটের জন্য তারাই যেন হলের সিট পায়। কিন্তু আমরা দেখলাম ক্ষমতার প্রদর্শন করে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন নিজেদের টপ ফাইভের নেতাদের রেফারেন্সে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’

ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থী সালমান বলেন, ‘স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ আমলে ফ্যাসিট হাসিনার সময়ে যেভাবে হলগুলো দখল করা হয়েছিল, আবারো একইভাবে আমাদের হলগুলোতে আগের গেস্টরুম, গণরুম কালচার ফিরে আশার আশঙ্কা প্রকাশ করছি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর এভাবে সিট বরাদ্দ দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। একইসাথে ঢাকা কলেজ থেকে যদি এই সিট বরাদ্দ শুরু হয় তাহলে পরবর্তীতে সিট বরাদ্দের দলীয়করণ পুরো বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়বে। আমরা আবারো আওয়ামী লীগে আমলের ছাত্রলীগের কালচার ফিরে আসার আশঙ্কা করছি।’

সিট বরাদ্দ বাতিলের দাবি জানিয়ে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী শাহিন আলম বলেন, ‘এই সিট বরাদ্দ বাতিল করে নতুন করে আবারো ভাইভা নিয়ে শিক্ষার্থীদের সমস্যাকে আইডেন্টিফাই করে হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন যেন ভেঙে না যায় সেই জায়গাকে লক্ষ্য রেখে সিট বরাদ্দ দিতে হবে। সাধারণ শিক্ষার্থী, নিডি ছেলেদের বঞ্চিত করার জবাব কলেজ প্রশাসনকে অবশ্যই দিতে হবে। চিহ্নিত ছাত্রলীগের সাথে যুক্ত তারাও হলে সিট পেয়েছে। যারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে না থেকে এ ধরনের কাজ করেছে তাদের জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হবে।’