রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা
রাজশাহী থেকে ছেড়ে যাওয়া কয়েকটি দূরপাল্লার বাস নাটোরে আটকে রাখার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজশাহী থেকে সারাদেশে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন গন্তব্যের বাস চলাচল বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজশাহী থেকে বাইরে যেতে চাওয়া যাত্রীরা।
পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নাটোরে রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী দেশ ট্রাভেলস ও ন্যাশনাল ট্রাভেলসের কয়েকটি বাস আটকে রাখার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজশাহীর পরিবহন মালিকপক্ষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। এর প্রতিবাদে রাজশাহী থেকে দূরপাল্লার সব বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কয়েক দিন ধরেই বিরোধ:-
পরিবহন সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, রাজশাহী ও নাটোরের পরিবহন মালিকদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত কয়েক দিন আগে থেকেই।
গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে রাজশাহী থেকে দর্শনার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া রাব্বি পরিবহনের একটি বাস নাটোরে পৌঁছানোর পর আটকে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরিবহন সংশ্লিষ্টদের দাবি, তুহিন পরিবহনের মালিকপক্ষ বাসটি থামিয়ে যাত্রীদের অন্য একটি বাসে তুলে দেয়। পরে রাব্বি পরিবহনের বাসটি নাটোরে রেখে দেওয়া হয়।
এর জেরে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে রাজশাহীতে তুহিন পরিবহনের কয়েকটি বাস আটকে রাখা হয়। পরে নাটোরে রাব্বি পরিবহনের বাস ছেড়ে দেওয়া হলে রাজশাহীতে আটক তুহিন পরিবহনের বাসগুলোও ছেড়ে দেওয়া হয়। এতে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও দুই পক্ষের বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি।
এর মধ্যেই শনিবার সকালে নাটোরে রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী দেশ ট্রাভেলস ও ন্যাশনাল ট্রাভেলসের কয়েকটি বাস আটকে রাখার খবর আসে। এরপরই রাজশাহী থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে পরিবহন মালিকপক্ষের দাবি।
কাউন্টারে এসে ফিরে যাচ্ছেন যাত্রীরা:-
বাস চলাচল বন্ধ থাকায় শনিবার সকাল থেকেই রাজশাহীর বিভিন্ন বাস কাউন্টারে যাত্রীদের ভিড় দেখা যায়। ঢাকাসহ দূরপাল্লার বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার জন্য টিকিট কাটা থাকলেও অনেকেই কাউন্টারে এসে জানতে পারেন, বাস চলবে না।
কেউ টিকিটের টাকা ফেরত নিয়ে বিকল্প যানবাহনে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। আবার কেউ বাস চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার আশায় কাউন্টারে অপেক্ষা করছেন।
ঢাকাগামী মানিক মোল্লা নামের এক যাত্রী বলেন, ‘আগেই বাসের টিকিট কেটেছিলাম। কাউন্টারে এসে জানতে পারলাম বাস চলবে না। হঠাৎ করে বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছি।’
আরেক যাত্রী বলেন, জরুরি প্রয়োজনে ঢাকায় যেতে হবে। বাস বন্ধ থাকায় কীভাবে গন্তব্যে পৌঁছাবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি। দুই পক্ষের বিরোধ দ্রুত মিটিয়ে বাস চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানান তিনি।
‘বিরোধের প্রভাব পড়ছে যাত্রী-শ্রমিকের ওপর’:-
রাজশাহীর এক পরিবহন শ্রমিক বলেন, মালিকদের বিরোধের প্রভাব সরাসরি শ্রমিক ও যাত্রীদের ওপর পড়ছে। এতে একদিকে শ্রমিকদের আয়-রোজগার ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়ছেন। আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধান হওয়া প্রয়োজন।
উত্তরবঙ্গ বাস মালিক সমিতির মহাসচিব নজরুল ইসলাম বলেন, রাজশাহী ও নাটোরের পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধের কারণে রাজশাহী থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি সমাধানে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
দ্রুত সমাধানের দাবি:-
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুই পক্ষের বিরোধ দ্রুত মীমাংসা না হলে এর প্রভাব আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে রাজশাহী থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত যাতায়াতকারী বিপুলসংখ্যক যাত্রীকে বিকল্প ও ব্যয়বহুল পরিবহনের ওপর নির্ভর করতে হবে।
যাত্রীদের দাবি, মালিক-শ্রমিকদের বিরোধের দায় সাধারণ যাত্রীরা কেন বহন করবেন—এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান করে দূরপাল্লার বাস চলাচল স্বাভাবিক করা হোক।