ধনী হওয়ার কৌশল শেখানো লেখকের ঋণ ১৪ হাজার কোটি টাকা

14 thousand crore rupees
অনলাইন ডেস্ক ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৬:৪৮ অপরাহ্ন বিশ্ব/আন্তর্জাতিক
অনলাইন ডেস্ক ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৬:৪৮ অপরাহ্ন
ধনী হওয়ার কৌশল শেখানো লেখকের ঋণ ১৪ হাজার কোটি টাকা
--সংগৃহীত ছবি

একসময় বইটি হাতে নিয়ে অনেক তরুণ ভেবেছিলেন, ধনী হওয়া বুঝি কঠিন কোনো রহস্য নয়। শুধু টাকাকে কাজে লাগাতে জানতে হবে। স্বাভাবিকভাবেই পাঠকের ধারণা হয়েছিল, এই পরামর্শ যিনি দিচ্ছেন, তিনি নিশ্চয় নিজের বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে অনেক ধনী হতে পেরেছেন। কিন্তু সেই বইয়ের লেখক রবার্ট কিয়োসাকি এবার কাঁধে থাকা ঋণের পরিমাণ দিয়ে আলোচনায় এসেছেন।


তিনি জানিয়েছেন, তার ঋণের পরিমাণ ১২০ কোটি ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ১৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকারও বেশি।


৭৯ বছর বয়সী জাপানি-মার্কিন লেখক রবার্ট কিয়োসাকি সম্প্রতি কয়েকটি পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে তার ১২০ কোটি ডলার ঋণের কথা বলেন। তবে এই পুরো অর্থ তার ব্যক্তিগত দায় নয়।


কিয়োসাকির সাবেক স্ত্রী ও দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক অংশীদার কিম কিয়োসাকি আগস্টের শেষ দিকে ‘ভ্যানিটি ফেয়ার’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিষয়টি পরিষ্কার করেন।


তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঋণের বড় অংশ প্রায় ১ হাজার ৫০০টি অ্যাপার্টমেন্টে বিনিয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব বিনিয়োগে কিয়োসাকি একা নন, অন্য অংশীদারও রয়েছেন।


অর্থাৎ ১২০ কোটি ডলারের অংকটি কিয়োসাকির ব্যক্তিগত পকেটের ঋণ হিসেবে দেখলে বিষয়টি ভুলভাবে বোঝা হবে।


‘ভ্যানিটি ফেয়ার’-এর হিসাব অনুযায়ী, কিয়োসাকির ব্যক্তিগত ঋণের পরিমাণ সম্ভবত তিন কোটি থেকে ছয় কোটি ডলারের মধ্যে।


চীনে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা

কিয়োসাকির ঋণের খবর চীনে বিশেষভাবে আলোড়ন তুলেছে। কারণ, ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত ‘রিচ ড্যাড, পুওর ড্যাড’ বইটি চীনেও ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল।


অনেক পাঠকের কাছে বইটি ছিল ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগের জগতে প্রবেশের প্রথম দরজা।


ফলে কিয়োসাকির ঋণের খবর সামনে আসতেই চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো সেই পরামর্শ নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।


রেডনোটে অনেকে লিখেছেন, ‘রিচ ড্যাড, পুওর ড্যাড’ পড়ে তারা ফ্ল্যাট কিনেছিলেন। কিন্তু বাজার পড়ে যাওয়ার পর সেই বিনিয়োগ তাদের জন্য বড় আর্থিক বোঝায় পরিণত হয়েছে।


ভিডিও ভাইরাল / ২ লাখ টাকার বিল দিতে না পারায় কেটে নেওয়া হলো তরুণীর চুল

আবার কেউ কেউ উল্টো অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন। বইটি পড়ে তারা শেয়ার ও তহবিলে বিনিয়োগে আগ্রহী হয়েছিলেন।


ঋণ নিয়ে সম্পদ বাড়ানোর দর্শন

কিয়োসাকির দর্শনের কেন্দ্রে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা— সব ঋণ খারাপ নয়।


তার যুক্তি হলো, যে ঋণ এমন সম্পদ কিনতে ব্যবহৃত হয় যা নিয়মিত আয় তৈরি করে, সেটি সম্পদ তৈরির হাতিয়ার হতে পারে।


সাংহাইভিত্তিক আবাসন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ই-হাউস চায়না রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের উপাধ্যক্ষ ইয়ান ইউয়েজিনও বিষয়টিকে এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছেন।


তার মতে, ‘রিচ ড্যাড, পুওর ড্যাড’-এর মূল বক্তব্যের একটি অংশ হলো সম্পদ ও দায়ের পার্থক্য বোঝা।


কিয়োসাকির নিজের ক্ষেত্রেও বিপুল ঋণের বড় অংশ সম্পত্তি বিনিয়োগের প্রকল্পভিত্তিক দায়। বড় পরিসরের অনেক মার্কিন আবাসন বিনিয়োগকারী এ ধরনের কৌশল ব্যবহার করেন।


সম্পত্তির মূল্য বাড়লে সেই সম্পদের বিপরীতে আবার ঋণ নেওয়া হয়। এর মাধ্যমে পুরোনো ঋণ পুনঃঅর্থায়ন করে নতুন বিনিয়োগের পরিসর বাড়ানো যায়।


কিন্তু ঝুঁকিও কম নয়

সমস্যা হলো, এই কৌশল সব সময় কাজ করবে— এমন নিশ্চয়তা নেই।


সম্পত্তির দাম কমে গেলে ঋণের বিপরীতে থাকা সম্পদের মূল্যও কমে যায়। অন্যদিকে সুদের হার বেড়ে গেলে ঋণ পরিশোধের খরচ বাড়ে।


যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উচ্চ সুদের হার অর্থায়নের খরচ বাড়িয়েছে। একই সময়ে বাড়িভাড়ার বৃদ্ধির গতিও কমেছে। ফলে সম্পত্তি কিনে বেশি ঋণ নেওয়ার কৌশল আগের চেয়ে অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট