উজানের ঢলে বাড়ছে তিন নদীর পানি॥ চাঁপাইনবাবগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, চরাঞ্চলে বাড়ছে দুর্ভোগ ও ভাঙনের শঙ্কা

Water levels in three rivers are rising due to upstream flooding
আবুল কালাম আজাদ ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:০৭ অপরাহ্ন সারা বাংলা
আবুল কালাম আজাদ ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:০৭ অপরাহ্ন
উজানের ঢলে বাড়ছে তিন নদীর পানি॥  চাঁপাইনবাবগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, চরাঞ্চলে বাড়ছে দুর্ভোগ ও ভাঙনের শঙ্কা
উজান থেকে নেমে আসা ঢলে চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা, মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। ছবি - বিজয় বাংলা

উজান থেকে নেমে আসা ঢলে চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা, মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। কোথাও বসতবাড়ির আঙিনা ও চলাচলের পথ পানিতে তলিয়ে গেছে, কোথাও কৃষিজমিতে পানি ঢুকেছে। নদীর পানি আরও বাড়লে চর ও তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি নদীভাঙনের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

সাম্প্রতিক পানি পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে, তিন নদীর পানিই বাড়ছে। তবে এখনো বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। মহানন্দা নদীর পানিও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে জেলার নদীসংলগ্ন চর ও নিম্নাঞ্চলে। এসব এলাকার মানুষ প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে পানি ও নদীভাঙনের ঝুঁকিতে থাকেন। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, গবাদিপশু ও যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকলে নিচু এলাকার আরও বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়তে পারে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনেক পরিবারকে প্রয়োজনে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিতে হতে পারে।

শুধু পদ্মা নয়, জেলার অন্যতম প্রধান নদী মহানন্দা ও পুনর্ভবার পানিও বাড়ছে। ফলে তিন নদীর অববাহিকাজুড়ে নিম্নাঞ্চলের পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন নিচু এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হলে জলাবদ্ধতাও বাড়তে পারে।

ফসল নিয়ে কৃষকের উদ্বেগ:-

নদীর পানি বাড়ায় সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে কৃষকদের মধ্যে। নিম্নাঞ্চলের ফসলি জমিতে পানি ঢুকলে আমনসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এরই মধ্যে যেসব জমিতে পানি জমেছে, সেসব জমির কৃষকেরা ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।

কৃষকেরা বলছেন, পানি দ্রুত নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতি সীমিত রাখা সম্ভব হবে। কিন্তু কয়েক দিন পানি স্থায়ী হলে ফসলের পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদন খরচও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ভাঙনের আশঙ্কাও বাড়ছে:-

পানি বৃদ্ধির সঙ্গে নদীর স্রোত বাড়লে চর ও নদীতীরবর্তী এলাকায় ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের নদীপাড়ের মানুষের কাছে এটাই বড় আতঙ্ক। পানি বাড়ার পর কোথাও ভাঙন শুরু হলে অল্প সময়ের মধ্যেই বসতভিটা ও আবাদি জমি নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।

স্থানীয়রা বলছেন, নদীর পানি বৃদ্ধির পরিস্থিতি এখন থেকেই নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। ভাঙনপ্রবণ এলাকায় আগাম ব্যবস্থা নেওয়া গেলে ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।

প্রস্তুতি নেওয়ার দাবি:-

নদীর পানি বাড়তে থাকায় চর ও নিম্নাঞ্চলের মানুষের জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষের জন্য আশ্রয়ের ব্যবস্থা, নিরাপদ পানীয় জল, খাদ্য ও জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রস্তুত রাখার দাবি উঠেছে।

একই সঙ্গে গবাদিপশু রক্ষায়ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা। কারণ বন্যা বা আকস্মিক প্লাবনের সময় মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশু সরিয়ে নেওয়াও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের নদীর পানি বৃদ্ধির গতিপ্রকৃতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং নদীতীরবর্তী মানুষকে দ্রুত তথ্য জানানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণের মধ্যে, তবে সতর্কতা জরুরি:-

বর্তমানে তিন নদীর পানি বাড়লেও বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের বন্যা পরিস্থিতি তৈরি না হলেও পানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। উজানে বৃষ্টিপাত ও পানিপ্রবাহের ওপরই আগামী কয়েক দিনের পরিস্থিতি অনেকটা নির্ভর করবে।

তাই নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের মানুষকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রস্তুতি জোরদার করা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।