পবায় ফ্রি টিকায় সুরক্ষিত হচ্ছে ৮৩ হাজার গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি, স্বস্তিতে প্রান্তিক খামারিরা

83,000 cattle and poultry are being protected through free vaccination in Poba
নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৩:৩৪ অপরাহ্ন সারা বাংলা
নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৩:৩৪ অপরাহ্ন
পবায় ফ্রি টিকায় সুরক্ষিত হচ্ছে ৮৩ হাজার গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি, স্বস্তিতে প্রান্তিক খামারিরা
রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন।

সকাল থেকেই পবা উপজেলার বড়গাছী ইউনিয়নের তালগাছি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকেন  প্রান্তিক খামারি ও কৃষকেরা। কারও সঙ্গে গরু, কারও সঙ্গে ছাগল, আবার কেউ হাঁস-মুরগী নিয়ে আসেন টিকা দিতে। রোগের প্রাদুর্ভাবে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি মারা যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে বিনা মূল্যে টিকা দেওয়ার উদ্যোগে স্বস্তি দেখা যায় তাঁদের মধ্যে। প্রান্তিক খামারিদের গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সোমবার  সকালে তালগাছি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনা মূল্যে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমপি মিলন বলেন, বর্ষা মৌসুমে হাঁস-মুরগি, গরু ও ছাগল বিভিন্ন ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। গবাদিপশু যেন ভাইরাসে আক্রান্ত না হয়, সে জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে  বিনা মূল্যে এই টিকাদান কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে হরিপুর ইউনিয়নের চর মাঝার দিয়াড়েও ভার্চুয়ালী এ ধরনের কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছিলেন বলে জানান তিনি। পবা উপজেলাকে অত্যন্ত উর্বর এলাকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ও মাছ উৎপাদনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সঠিক পরিচর্যার অভাবে অনেক প্রান্তিক খামারি কাঙ্ক্ষিত সুফল পান না। বর্তমান সরকার প্রান্তিক কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের বিপুল জনশক্তিকে জনসম্পদে পরিণত করতে সবাইকে উৎপাদনমুখী কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  ইবনুল আবেদীন। তিনি বলেন, বাড়িতে গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি পালন করে অনেক পরিবার সংসারের ব্যয় মেটানোর পাশাপাশি বাড়তি আয় করে। কিন্তু রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে চিকিৎসা ও ওষুধের খরচ যেমন বাড়ে, তেমনি পশুপাখি মারা যাওয়ার আশঙ্কায় তাঁদের আয়ের পথও সংকুচিত হয়। প্রান্তিক খামারিদের কথা চিন্তা করেই উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সময়মতো বিনা মূল্যে টিকা দেওয়া হচ্ছে।

ইউএনও আরো জানান, কর্মসূচির আওতায় গরুর তড়কা রোগের ২ হাজার, বাদলা রোগের ২ হাজার ৫০০ এবং গলাফুলা রোগের ২ হাজার টিকা দেওয়া হবে। এ ছাড়া ছাগলের পিপিআর রোগের ২ হাজার, মুরগির রানীক্ষেত রোগের ৭০ হাজার এবং হাঁসের ডাকপ্লেগ রোগের ৫ হাজার টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে ৮৩ হাজার ৫০০ টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তালগাছি এলাকার খামারি রেজাউল হক নিজের গরু, ছাগল ও হাঁস নিয়ে টিকা দিতে আসেন। তিনি বলেন, ‘আমার ২টি হাঁস, ৩টি গরু ও ৫টি ছাগলকে টিকা দিয়েছি। বিনা মূল্যে টিকা পাওয়ায় আমাদের মতো ছোট খামারিদের অনেক উপকার হয়েছে। গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির রোগ হলে চিকিৎসার খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে। এমন উদ্যোগ নেওয়ায় আমরা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞ।’

বড়গাছী ইউনিয়নের গৃহিণী মরিয়ম বেগম বলেন, ‘তিনি ২টি ছাগল ও ১টি গরুকে টিকা দিয়েছেন। নিজের খরচে সব সময় টিকা দেওয়া সম্ভব হয় না। বিনামূল্যে টিকা পাওয়ায় পশুগুলোকে রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখার সুযোগ হয়েছে। এ জন্য তারা খুবই খুশি।’

তালগাছি এলাকার কৃষক মোজাম্মেল হক একটি রাজহাঁস নিয়ে এসেছিলেন ডাকপ্লেগ রোগের টিকা দিতে। তিনি বলেন, ‘হাঁস-মুরগি তাদের বাড়তি আয়ের একটি বড় ভরসা। একটি রোগে অনেকগুলো হাঁস-মুরগি মারা যেতে পারে। বিনা মূল্যে টিকা পেয়ে খুব ভালো লাগছে। এমন কার্যক্রম নিয়মিত হলে তাদের মতো প্রান্তিক খামারিরা আরও উপকৃত হবেন।’ এ সময় বাবা উপজেলা বিএনপি'র সদস্য সচিব সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.  আব্দুল লতিফ, ভেটেরিনারি সার্জন ডা.  সোহরাব খান, বড়গাছী ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক সাবেক চেয়ারম্যান সোহেল রানাসহ উপজেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সহ অত্র ইউনিয়ন বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।