প্রথম দেশ হিসেবে পৃথিবীর কক্ষপথে অস্ত্র মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র

The United States is the first country to deploy weapons in Earth orbit
অনলাইন ডেস্ক ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:৪৩ অপরাহ্ন বিশ্ব/আন্তর্জাতিক
অনলাইন ডেস্ক ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:৪৩ অপরাহ্ন
প্রথম দেশ হিসেবে পৃথিবীর কক্ষপথে অস্ত্র মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র
--সংগৃহীত ছবি

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে পৃথিবীর অক্ষপথে (অন-অরবিট) অস্ত্র মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বিমান বাহিনীর সচিব ট্রয় মেইঙ্ক গত কাল সোমবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের ন্যাশনাল হারবার রিসোর্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানালেও কী ধরনের অস্ত্র মোতায়েন করা হচ্ছে, তা বলেননি ট্রয় মেইঙ্ক; তবে বলেছেন, ‘ক্রমবর্ধমান হুমকির’ মোকাবিলা এবং ‘মহাকাশে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ’ ধরে রাখতে এ পদক্ষেপ নিচ্ছে ওয়াশিংটন।


ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশপথে আসা অন্যান্য হুমকি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সুরক্ষার লক্ষ্যে ট্রাম্প প্রশাসন যখন তাদের ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য মহাকাশ ভিত্তিক সক্ষমতা গড়ে তোলার কাজে তৎপর হয়ে উঠেছে, ঠিক সে সময়েই এ সংবাদ সম্মেলন করলেন মেইনঙ্ক।


মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাকাশ বিভাগের (স্পেস ফোর্স) এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছেন, “শত্রুপক্ষের বৈরী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও তার সেনাবাহিনীকে রক্ষা করতে সক্ষম এমন 'স্পেস কন্ট্রোল' বা মহাকাশ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে,"—এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্সের একজন মুখপাত্র। তবে ওই বিবৃতিতে অস্ত্রগুলোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।


বিবৃতিতে তিনি আরও বলেছেন, “মহাকাশ নিয়ন্ত্রণ বলতে মহাকাশ-সংক্রান্ত ক্ষেত্রে আধিপত্য বজায় রাখা ও তা নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রমকে বোঝায়—যার আওতায় প্রতিপক্ষের সক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে গতি (কাইনেটিক) ও অ-গতি (নন-কাইনেটিক) উভয় ধরনের পদ্ধতিই ব্যবহার করা হয়। এই সক্ষমতাগুলো আক্রমণাত্মক ও রক্ষণাত্মক—উভয় উদ্দেশ্যেই কাজে লাগানো যেতে পারে।”


কিন্তু কোন ধরনের অস্ত্র মহাকাশে বা পৃথিবীর অক্ষপথে মোতায়েন করা হচ্ছে, তার স্পষ্ট উত্তর দেননি সেই মুখপাত্রও।


মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী রাশিয়া এবং চীন। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকদের মনে করছেন, বিমান বাহিনীর সচিব ট্রয় মেইঙ্ক সোমবারের সংবাদমাধ্যমে ‘ক্রমবর্ধমান হুমকি’ বলতে রাশিয়া ও চীনকেই ইঙ্গিত করেছেন।


যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাকাশ বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, “এক দিকে চীন সামরিক আধুনিকীকরণ কৌশলের অংশ হিসেবে মহাকাশ ও পাল্টা-মহাকাশ সক্ষমতা গড়ে তুলছে ও পরিচালনা করছে; অন্যদিকে রাশিয়া মহাকাশকে যুদ্ধের একটি ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করে এবং বিশ্বাস করে যে, ভবিষ্যৎ সংঘাতের ক্ষেত্রে মহাকাশে আধিপত্য বিস্তারই হবে একটি নির্ণায়ক বিষয়।”


সূত্র : এএফপি, এনডিটিভি