ডেঙ্গু ঠেকাতে রাজশাহীতে তিন মাসের অভিযান, নাগরিকদের সপ্তাহে একদিন পরিষ্কারের আহ্বান

Three-month campaign in Rajshahi to prevent dengue
আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী:- ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৩:০৬ অপরাহ্ন নির্বাচিত সংবাদ
আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী:- ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৩:০৬ অপরাহ্ন
ডেঙ্গু ঠেকাতে রাজশাহীতে তিন মাসের অভিযান, নাগরিকদের সপ্তাহে একদিন পরিষ্কারের আহ্বান
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারে রাজশাহীতে তিন মাসব্যাপী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সিটি করপোরেশন (রাসিক)।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারে রাজশাহীতে তিন মাসব্যাপী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সিটি করপোরেশন (রাসিক)। এর অংশ হিসেবে মঙ্গলবার নগর ভবনের সিটি হল সভাকক্ষে ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতা বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। সভাপতিত্ব করেন সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম। সভায় চিকিৎসক, কীটতত্ত্ববিদ, স্বাস্থ্যকর্মীসহ বিভিন্ন দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।


সভায় বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতা ও অংশগ্রহণ জরুরি। এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাড়ির ছাদ, বারান্দা, আঙিনা, নির্মাণাধীন ভবন, ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা ও বিভিন্ন পাত্রে পানি জমতে দেওয়া যাবে না।


নাগরিকদের সপ্তাহে অন্তত একদিন বাসাবাড়ি ও আঙিনা পরিষ্কার করার পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রজননস্থল নিয়মিত পরীক্ষা ও পরিষ্কারের আহ্বান জানানো হয়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, যেসব এলাকায় বেশি ডেঙ্গুর লার্ভা পাওয়া যাবে, সেসব এলাকা চিহ্নিত করে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে।


রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার তিন মাসব্যাপী কর্মসূচি নিয়েছে। নগরবাসীকে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে রাসিকও জনসচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও মশকনিধন কার্যক্রম জোরদার করেছে।


তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী কথা নয়, কাজে বিশ্বাসী। প্রধানমন্ত্রীর কর্মী হিসেবে আমিও কাজে বিশ্বাসী।”


রিটন আরও বলেন, “শুধু সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম দিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সবাই সপ্তাহে অন্তত একদিন নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আঙিনা পরিষ্কার করলে এডিস মশার প্রজননস্থল অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।”


তিনি বলেন, ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ হিসেবে রাজশাহীর সুনাম ধরে রাখতে নগরীকে আরও সবুজ ও পরিচ্ছন্ন করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ২ লাখ ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।


রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ডা. মোফাখখারুল ইসলাম বলেন, বাসাবাড়িতে সপ্তাহে একদিন এবং প্রতিষ্ঠানে অন্তত দুই দিন বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো প্রয়োজন। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ করতে হবে।


রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আজিজুল হক আজাদ বলেন, রাজশাহীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ায় রামেক হাসপাতালে আলাদা ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দিনে বা রাতে যেকোনো সময় এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু হতে পারে। তাই মশারি ব্যবহারের পাশাপাশি ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


সভায় ডেঙ্গুর সার্বিক পরিস্থিতি ও তথ্য উপস্থাপন করেন জেলা কীটতত্ত্ববিদ উম্মে হাবিবা এবং বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের কীটতাত্ত্বিক টেকনিশিয়ান মো. আব্দুল বারী। রাসিকের গৃহীত কার্যক্রমের তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা সেলিম রেজা রঞ্জু।


সভায় রাসিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলর, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ, পরিবেশ অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং রাসিকের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।